টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব ল্যাঙ্কশায়ার। ৪৪ বছর বয়সী এই তারকা ক্রিকেটারের প্রতি এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সতীর্থ স্টুয়ার্ট ব্রড। অ্যান্ডারসনের বিদায় নেওয়ার প্রক্রিয়াটিকে তিনি অত্যন্ত অমর্যাদাকর বলে অভিহিত করেছেন। গত রোববার ল্যাঙ্কশায়ার জানায়, অ্যান্ডারসনের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না।
সদ্য সমাপ্ত কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুমে জেমস অ্যান্ডারসন ১৭ গড়ে ৫০টি উইকেট তুলে নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। মৌসুম শেষে ল্যাঙ্কশায়ারের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতিও পেয়েছেন তিনি। অথচ গত রবিবার ক্লাব কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তাঁরা অভিজ্ঞ এই পেসারের সঙ্গে আর চুক্তি বাড়াচ্ছে না।
নিজের ক্যারিয়ারের শেষটা এমনভাবে হবে, তা অন্তত প্রত্যাশা করেননি অ্যান্ডারসন। তিনি অকপটে জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি তাঁর হাতে থাকলে তিনি নিশ্চয়ই এমন বিদায়ের পথ বেছে নিতেন না। তবে এরপরেও নিজের প্রাক্তন ক্লাব ও সমর্থকদের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি। ব্রড তাঁর ‘ফর দ্য লাভ অব ক্রিকেট’ পডকাস্টে বলেছেন, এমন কিংবদন্তিকে বিদায় জানানোর ক্ষেত্রে ক্লাবটির আরও অধিক সম্মান ও সৌজন্য দেখানো উচিত ছিল। তাঁর মতে, এই ঘটনা ল্যাঙ্কশায়ারের নেতৃত্বের অভাবই ফুটে তুলেছে। অ্যান্ডারসন বলেন, ‘সিদ্ধান্তটা যদি আমার হাতে থাকত, তবে শেষটা অন্তত এভাবে হতো না। তবে ক্লাবটির খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।’। বন্ধুর সঙ্গে ল্যাঙ্কশায়ারের এমন আচরণ মেনে নেননি ব্রড। এ ঘটনা ক্লাবটির সঠিক দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের দৈন্যই প্রকাশ করে।’।
টেস্ট ক্রিকেটে অ্যান্ডারসনের ওপরে এখন শুধু দুই স্পিন লিজেন্ড শেন ওয়ার্ন ও মুত্তিয়া মুরালিধরন রয়েছেন। ব্রড মনে করেন, অ্যান্ডারসনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যে নাটকীয়ভাবে শেষ হয়েছিল, ল্যাঙ্কশায়ারের ঘটনাটিও ঠিক তার পুনরাবৃত্তি। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ম্যানচেস্টারের ডাকোটা হোটেলে এক গোপন বৈঠকের মাধ্যমে রব কি ও কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম হুট করেই অ্যান্ডারসনকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে দল আর তাঁকে নিয়ে ভাবছে না। সেই সময় বিষয়টি অ্যান্ডারসনের জন্য ছিল বিশাল এক ধাক্কা। টেস্টে উইকেট নেওয়ায় শুধু দুই কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন (৭০৮) ও মুত্তিয়া মুরালিধরন (৮০০) অ্যান্ডারসনের ওপরে। ২০২৪ সালেও (ইংল্যান্ডের ক্রিকেট পরিচালক) রব কি এবং (সাবেক কোচ) ব্রেন্ডন ম্যাককালাম হুট করেই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিয়েছিলেন, যা জিমির জন্য বড় ধাক্কা ছিল এবং কাজটা খুব বাজেভাবে করা হয়েছিল।
অ্যান্ডারসন নিজের আত্মজীবনীতে সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে একে ‘গুডফেলাস’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেখানে কোনো বিশেষ স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় গিয়ে ভিন্ন কোনো পরিণতি পেতে হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিদায়ের সেই ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কশায়ারের এমন সিদ্ধান্তে ব্রড প্রচণ্ড হতাশ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অ্যান্ডারসন এমন অসম্মানজনক বিদায়ের যোগ্য নন।
ইংল্যান্ডের হয়ে একসঙ্গে ১৩৮টি টেস্ট খেলে ১০৩৯টি উইকেট শিকার করা এই দুই কিংবদন্তি দীর্ঘদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ব্রড নিজেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ভারতের বিপক্ষে ২০২৪ সালের সিরিজের পর টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে বাদ পড়ার আগপর্যন্ত অ্যান্ডারসন অবশ্য জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। বর্তমানে ল্যাঙ্কশায়ারের এই সিদ্ধান্তের পর অ্যান্ডারসন তাঁর ভবিষ্যৎ ক্রিকেট জীবন নিয়ে কী করবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করেননি। ইংল্যান্ডের হয়ে একসঙ্গে ১৩৮ টেস্ট খেলে ১০৩৯টি উইকেট নেন অ্যান্ডারসন-ব্রড। ২০২৩ সালে জুলাই ব্রড আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার এক বছর পর অ্যান্ডারসনও সেই পথে হাঁটেন। ২০২৪ সালে ভারত সফরের পর ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নেয়, অ্যান্ডারসনকে ছাড়াই সামনে এগোবে দল।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন। যোগাযোগঃ হোল্ডিং নং- ০১, ( আব্দুর রব মঞ্জিল), ঘোষপাড়া, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর- ৩৬৪০। ই-মেইলঃ ajshawlin2007@gmail.com, মোবাইলঃ 01920565995
Design & Developed by Soft-Mack IT