শিমুল হোসেন, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের রহিমপুর শেখপাড়া গ্রামে অবস্থিত শতবর্ষী এবতেদায়ী মাদ্রাসার জমি জোরপূর্বক বিক্রি ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রহিমপুর শেখপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এবতেদায়ী মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম ও আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। মাদ্রাসার নির্ধারিত জমি ২ শতাংশ (দাগ নং-৪১৮, খতিয়ান নং-০২, মৌজা রহিমপুর, জে.এল নং-১৯১, উপজেলা কালিগঞ্জ, জেলা সাতক্ষীরা)।
স্থানীয়দের দাবি, জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর মসজিদ- মাদ্রাসা সংলগ্ন প্রায় ৪২ শতাংশ জমি অলিখিতভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক কাজে ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়, যা ঈদের নামাজ, কুরবানির স্থান ও শিশুদের খেলাধুলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।অভিযোগ রয়েছে, কালের পরিক্রমায় ওই ৪২ শতাংশ জমির মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ মাদ্রাসার নামে রেখে বাকি জমি অবৈধভাবে রেকর্ড করে নেয় একটি পক্ষ।
সম্প্রতি মাদ্রাসার নির্ধারিত ২ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ১ শতাংশ জোরপূর্বক বিক্রির অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত আশরাফ আলী গং (ছেলে রাইসুল, খাইরুল ও মনিরুল) ওই জমি গ্রামের শেখ আলতাফ ও শেখ আমজাদ আলীর কাছে বিক্রি করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পূর্বে মাদ্রাসা কমিটির এক সদস্য সাইনবোর্ড স্থাপন করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হন। অভিযুক্তদের দাবি, তারা জমি ক্রয় করেছেন এবং সেখানে অন্য কোনো কাজ করতে দেবেন না। পরে জুম্মার নামাজ শেষে মুসল্লিরা সাইনবোর্ড টানাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
মসজিদ-মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, “মাদ্রাসার জমি অবৈধভাবে বিক্রি করা হয়েছে। কীভাবে ৯৭ নং খতিয়ানের মাধ্যমে ০২ নং খতিয়ানের জমি দখল ও বিক্রি করা হয়—তা আমাদের বোধগম্য নয়। পূর্বেও ঈদগাহ ও কবরস্থানের যাতায়াতের রাস্তা টিন দিয়ে ঘিরে নেওয়া হয়েছিল, যা প্রশাসনের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়। এখন আবারও মাদ্রাসার জমি বিক্রির পায়তারা চলছে।”
অভিযুক্ত পক্ষের পরিবারের এক সদস্য প্রকাশ্যে হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে জমির ক্রেতারা সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে দাবি স্থানীয়দের।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট জমির উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে ৮ ফুট সরকারি ইটের রাস্তা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়রা অবৈধ দখলচেষ্টা রোধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জুয়েল হাসান বলেন, “বিষয়টি শুনেছি, তবে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। গ্রামবাসীর দাবি, শতবর্ষী ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন। যোগাযোগঃ হোল্ডিং নং- ০১, ( আব্দুর রব মঞ্জিল), ঘোষপাড়া, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর- ৩৬৪০। ই-মেইলঃ ajshawlin2007@gmail.com, মোবাইলঃ 01920565995
Design & Developed by Soft-Mack IT