চাঁদপুর প্রতিনিধি | ১৭ জুলাই ২০২৬:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এতিমখানার জন্য সরকারি বরাদ্দের এক টন করে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত উপজেলা যুবদল নেতা মনির হোসেন মোল্লা উপজেলার ২০টিরও বেশি এতিমখানায় গিয়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে ফেরত দিয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষমাও চেয়েছেন। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে উপজেলার ৪৬টি এতিমখানার জন্য বরাদ্দকৃত ৪৬ টন চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক টন চালের পরিবর্তে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি চাল অথবা ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বাকি চালের মূল্য আত্মসাৎ করা হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর ১৬ ও ১৭ জুলাই বিভিন্ন এতিমখানা পরিদর্শন করে জানা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত পক্ষ তাদের কাছে গিয়ে এই অর্থ পরিশোধ করে।
কয়েকটি এতিমখানার দায়িত্বশীলরা ভিডিও সাক্ষাৎকারে জানান, প্রথমে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ১৫ হাজার, আবার কোনো প্রতিষ্ঠানকে ১৭ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। এক টন চালের পরিবর্তে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি চাল বা তার সমমূল্যের আংশিক অর্থ দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। পরে সংবাদ প্রকাশের পর বাকি অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হয়।
এতিমখানা পরিচালকদের ভাষ্য, ভবিষ্যতে এতিমদের সরকারি বরাদ্দ নিয়ে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে জন্য তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলার সাড়ে পাঁচানী হোসাইনীয়া এতিমখানার সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল আমীন মাস্টার বলেন, “এতিমদের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার অনুরোধ করেও কোনো ফল পাইনি। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হয়েছে। এতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
কলাকান্দা ইউনিয়নের সাতানী নেদায়ে ইসলাম আশেকী মানঞ্জুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বাহাউদ্দিন বলেন, “প্রথমে এক টন চালের পরিবর্তে আমাকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল আর কিছু দেওয়া হবে না। পরে বৃহস্পতিবার আরও ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের এতিমদের অনেক উপকার হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবদল নেতা মনির হোসেন মোল্লা বলেন, “আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”
এদিকে চাল বিতরণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)-এর কাছে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া এবং প্রকল্প-সংক্রান্ত নথিপত্র বহিরাগত ব্যক্তির কাছে থাকার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসব বিষয়ে আমার কোনো তথ্য জানা নেই।”
চাল বিতরণ কমিটির সভাপতি ও মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন। যোগাযোগঃ হোল্ডিং নং- ০১, ( আব্দুর রব মঞ্জিল), ঘোষপাড়া, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর- ৩৬৪০। ই-মেইলঃ ajshawlin2007@gmail.com, মোবাইলঃ 01920565995
Design & Developed by Soft-Mack IT