ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় কারচুপির অভিযোগে সরব বিরোধীদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন দেশটির ১২৪ জন সাবেক আমলা ও কূটনীতিক। এক খোলা চিঠিতে তাঁরা দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ভিত্তিহীন ও প্রমাণবিহীন অভিযোগ জনমনে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনাস্থা তৈরি করে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা। চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা জানি, কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে কেমন। তাঁদের ভাষ্য, কর্মকর্তারা হঠাৎ সাধু হয়ে যাওয়ায় এমনটা ঘটেনি; বরং নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থায় নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।
ভারতের ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যখন বিরোধীরা আন্দোলন করছেন, ঠিক তখনই সাবেক এই কর্মকর্তাদের এই বার্তা সামনে এল। গত শনিবার দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ বিরোধী দলের একাধিক নেতা আটক হয়েছেন।
সাবেক আমলারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘ সময় কাজ করার সুবাদে তাঁদের মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইভিএম সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়ার সাথে তাঁরা পরিচিত। চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কারচুপির অভিযোগের স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে তা নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাঁরা বলেন, অতীতে ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রের ভয়, প্রভাবশালীদের দাপট ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের মতো ঘটনার চিত্র তাঁদের জানা আছে। ১৯৮৯ সালে ভোটকেন্দ্র দখলকে অপরাধ ঘোষণার পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন এসেছে এবং গণতন্ত্রকে পুনরায় শক্তিশালী করা সম্ভব হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ১৯৮৯ সালে ভোটকেন্দ্র দখলকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে ভারতের সংসদ। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি প্রার্থীর এজেন্ট ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভোট গণনার স্বাক্ষরিত হিসাব পান।
বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে স্বচ্ছতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, সেখানে প্রথমবারের মতো কোনো কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন পড়েনি। এছাড়া ১৯৫১ সালের পর ওই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সমর্থন জানিয়ে রায় দিয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। বিহারের নির্বাচনকে উদাহরণ নির্বাচনী ব্যবস্থার উন্নতির উদাহরণ হিসেবে ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের কথা তুলে ধরেছেন সাবেক আমলা-কূটনীতিকরা। যখন সহিংসতা কথা বলে, তখন গণতন্ত্র নীরব হয়ে যায়।’। নারীদের ভোটদানের হার ছিল রেকর্ডসংখ্যক।
সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, বিশাল এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি করতে হলে হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রতিটি রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের নীরব থাকতে হবে, যার কোনো অকাট্য ষড়যন্ত্রের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁরা বিরোধীদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে অতীতে তাঁরা জয়ী হয়েছেন, এখন সেই ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে কেন প্রশ্ন তুলছেন? চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, জনসমর্থন হারানোর পর রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় কেউ কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরি করছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন। যোগাযোগঃ হোল্ডিং নং- ০১, ( আব্দুর রব মঞ্জিল), ঘোষপাড়া, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর- ৩৬৪০। ই-মেইলঃ ajshawlin2007@gmail.com, মোবাইলঃ 01920565995
Design & Developed by Soft-Mack IT