ব্রাজিলের বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর বলেছেন, তাঁর এই জয় দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত ও সুরক্ষিত করেছে। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় বসতে যাওয়া লুলার দাবি, এ নির্বাচনে নেতিবাচকতা ও মিথ্যাচারের পরাজয় ঘটেছে। কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে সামান্য ব্যবধানে হারিয়ে তিনি নাটকীয় এই জয় পেয়েছেন। এ জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসছেন। জনমত জরিপকারীদের ধারণা, এ অবস্থানের কারণেই তিনি ভোটারদের সমর্থন পেয়েছেন। ব্রাজিলে ভোট গড়াল দ্বিতীয় ধাপে, ‘খুবই খুশি’ ফ্লাভিও, ‘খেলা শুরু হচ্ছে’ বললেন লুলা।
বিজয়ী ভাষণে লুলা জানান, দেশ পরিচালনায় তিনি সবার সঙ্গে সমঝোতা ও মতৈক্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। জনগণের নির্বাচিত কংগ্রেসের সাথে মিলে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সরকার হবে সব ব্রাজিলবাসীর প্রতিনিধি। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি তরুণ প্রজন্মসহ ভোটারদের যে বার্তা দিয়েছিলেন, তা সফল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। লুলার ভাষ্যমতে, ভোটাররা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ভোট দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
সামাবেশে লুলা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় এসব মাধ্যমের অপব্যবহার করে বিদেশি হস্তক্ষেপের চেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা ব্রাজিলবাসী সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করেছে।
নির্বাচনী প্রচারের সমন্বয়কারী এবং ব্রাজিলের জনগণের উদারতার প্রশংসা করে তাদের ধন্যবাদ জানান লুলা। বিশেষ করে তরুণদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি, যারা গণতন্ত্র রক্ষায় রাজপথে সক্রিয় ছিল। সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক জয় নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণের বহিঃপ্রকাশ। কারণ, তাঁরা ব্রাজিলের গণতন্ত্র রক্ষায় রাস্তায় নেমেছিলেন।
লুলা স্পষ্ট ভাষায় পুনরায় ঘোষণা করেন, ব্রাজিল কোনো দেশের বাড়ির ‘পেছনের উঠান’ হয়ে থাকা মেনে নেবে না।
যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম নেননি, তবে এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঐতিহাসিকভাবে লাতিন আমেরিকার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ের ধারণাকে নাকচ করে দিয়েছেন। প্রচারণার শুরু থেকেই তিনি বারবার এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বলে মনে করা কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করে লুলার সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই অবস্থানকেই সমর্থন জানিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর অর্থ হলো, লাতিন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ের মধ্যে থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন। যোগাযোগঃ হোল্ডিং নং- ০১, ( আব্দুর রব মঞ্জিল), ঘোষপাড়া, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর- ৩৬৪০। ই-মেইলঃ ajshawlin2007@gmail.com, মোবাইলঃ 01920565995
Design & Developed by Soft-Mack IT