নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দেশের অন্যতম বৃহৎ মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে পাকা সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ করে অবৈধভাবে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের এমন কর্মকাণ্ডে বর্ষা মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ এ বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধটি চারদিক থেকে নদীবেষ্টিত প্রায় চার লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। বাঁধের কোনো অংশে ধস বা ফাটল দেখা দিলে হাজার হাজার বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও ফসল পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও অবৈধ পাইপ অপসারণে কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
জানা গেছে, বেড়িবাঁধ ফুটো করে ড্রেজারের মোটা পাইপ প্রবেশ করিয়ে বাঁধের ভেতরে বালু নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অবৈধ পাইপ উচ্ছেদ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা রয়েছে। কারণ, বাঁধটি নির্মাণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, আর বাঁধের ওপরের পাকা সড়ক নির্মাণ করেছে সওজ বিভাগ। ফলে বাঁধে সুড়ঙ্গ করে স্থাপিত পাইপ অপসারণের দায়িত্ব কোন সংস্থার—তা নিয়ে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে।
তবে উপজেলা প্রশাসন সাধারণত রাস্তার ওপর দিয়ে স্থাপিত ড্রেজারের পাইপ অপসারণে অভিযান পরিচালনা করলেও সড়কের নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ করে বসানো পাইপগুলো অনেক ক্ষেত্রেই থেকে যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে এক মাসে অন্তত ৪৫ থেকে ৫০টি অবৈধ ড্রেজার পাইপ অপসারণ করা হয়েছিল।
সম্প্রতি সরেজমিনে মেঘনা নদীসংলগ্ন চরমাছুয়া ট্রলারঘাট থেকে জনতা বাজার, একলাশপুর, মোহনপুর, দশানী হয়ে সুগন্ধি এলাকা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে অন্তত ১১টি স্থানে সেচ প্রকল্পের প্রধান পাকা সড়ক ফুটো করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করতে দেখা যায়।
এর মধ্যে চরমাছুয়া ট্রলারঘাট থেকে মহিষমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যেই পাঁচটি স্থানে পাইপ স্থাপনের চিত্র দেখা গেছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে চরমাছুয়া ট্রলারঘাট, বালুচর মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, জনতা বাজারের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত এবং মহিষমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থান।
এ ছাড়া মোহম্মদপুর ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকা, মোহনপুরের জাহাঙ্গীর মাস্টারের বাড়ির পাশ, শিকিরচর বটতলা বাজারের উত্তর ও দক্ষিণ পাশ, উত্তর শিকিরচর এবং সুগন্ধি বাজারসংলগ্ন এলাকাতেও একইভাবে সড়ক ফুটো করে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সেলিম শাহেদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বহুবার এসব ড্রেজার পাইপ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা পুনরায় পাইপ স্থাপন করছে। আমরা সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, যাতে স্থায়ীভাবে এসব স্থানে পাইপ বসানোর পথ বন্ধ করা যায়। স্থানীয়রা ড্রেজার মালিকদের পরিচয় জানাতে না পারায় অনেক সময় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হয়।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন। যোগাযোগঃ হোল্ডিং নং- ০১, ( আব্দুর রব মঞ্জিল), ঘোষপাড়া, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর- ৩৬৪০। ই-মেইলঃ ajshawlin2007@gmail.com, মোবাইলঃ 01920565995
Design & Developed by Soft-Mack IT