ভিয়েতনামের নতুন লং থান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩৬৬টি ফ্লাইট পরিচালনার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য সামনে রেখে বিমানবন্দরটির নির্মাণকাজের পাশাপাশি এর পরিচালন প্রস্তুতিও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, যাবতীয় আইনি, কারিগরি ও পরিচালনগত প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
প্রাথমিক পরিচালন সূচি অনুযায়ী, লং থান বিমানবন্দরে সাপ্তাহিক ৩৬৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ৩২২টি অভ্যন্তরীণ এবং ৪৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এয়ারপোর্টস করপোরেশন অব ভিয়েতনাম এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন বিমান সংস্থার সঙ্গে ফ্লাইটের সময়সূচি ও উড্ডয়ন-অবতরণের স্লট বরাদ্দের সমন্বয় করছে। নতুন এই বিমানবন্দরের কার্যক্রম এবং পার্শ্ববর্তী তান সন নাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
প্রাথমিক পর্যায়ে ভিয়েতনামের অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলো ধাপে ধাপে তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। এর মধ্যে ভিয়েতনাম এয়ারলাইনস তাদের লং থান-হ্যানয় রুটসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া ভিয়েটজেট এয়ার দেশের প্রধান অর্থনৈতিক ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে লং থানকে যুক্ত করতে অভ্যন্তরীণ রুটগুলো পরিচালনা করবে। ইতিমধ্যে অনেক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও এই বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে প্রধান নির্মাণ কাজগুলোর গ্রহণযোগ্যতা যাচাই শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র, নিরাপত্তার বিষয়গুলো এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া ডিসেম্বরের শুরুর দিকেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন সেবার লক্ষ্যে অবকাঠামো, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং শুল্ক, অভিবাসন ও কোয়ারেন্টাইন বিভাগের সক্ষমতা যাচাইয়ের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
লং থান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ভিয়েতনামের একটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্প। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) মানদণ্ড অনুযায়ী নির্মিত এই বিমানবন্দরের চূড়ান্ত পরিকল্পিত বার্ষিক সক্ষমতা ১০ কোটি যাত্রী এবং ৫০ লাখ টন পণ্য পরিবহন। প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের জন্য ১১৪ হাজার ৪৫০ বিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই পর্যায়ে বছরে আড়াই কোটি যাত্রী এবং ১২ লাখ টন পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্যিক যাত্রা শুরুর আগে সব শর্ত পূরণ এবং পরীক্ষামূলক পরিচালনা সফল করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য। প্রথম পর্যায়ে বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ১১৪ হাজার ৪৫০ বিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন। যোগাযোগঃ হোল্ডিং নং- ০১, ( আব্দুর রব মঞ্জিল), ঘোষপাড়া, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর- ৩৬৪০। ই-মেইলঃ ajshawlin2007@gmail.com, মোবাইলঃ 01920565995
Design & Developed by Soft-Mack IT