হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ আবারও বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই প্রকল্পের নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তৃতীয় সংশোধনের পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ ও পরামর্শক সেবার চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টার্মিনাল নির্মাণ চুক্তির ব্যয় ২০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ নির্মাণ খাতে অতিরিক্ত ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, পরামর্শক সেবার ব্যয় ৪শ ৫ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে এ খাতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকায়, যা মূল চুক্তিমূল্য ৭৭২ কোটি টাকার তুলনায় ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। নির্মাণকাজের ব্যয় ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং পরামর্শক সেবার ব্যয় ৪০৫ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।
নির্মাণাধীন এই অবকাঠামো প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে তথ্যে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার সুবিধার্থে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় ধরনের এই অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং দফায় দফায় সময় বাড়ানোর বিষয়টি জনমনে নানামুখী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয় ও সময়—দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে পরিবর্তন এসেছে।
তবে প্রকল্পের কাজের এই ধীরগতির মধ্যেও আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল আংশিকভাবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই টার্মিনালকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। এখন চ্যালেঞ্জ হলো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করে যাত্রীদের জন্য টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা। সেইসাথে প্রকল্পের ব্যয় ও পরামর্শক সেবার বর্ধিত খরচের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। এদিকে, তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যাত্রীসেবা ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তৃতীয় টার্মিনালকে দেশের বিমান চলাচল খাতের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন। যোগাযোগঃ হোল্ডিং নং- ০১, ( আব্দুর রব মঞ্জিল), ঘোষপাড়া, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর- ৩৬৪০। ই-মেইলঃ ajshawlin2007@gmail.com, মোবাইলঃ 01920565995
Design & Developed by Soft-Mack IT