চলতি বছরে অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই হল এবং মাইকেল উডফোর্ড। বাংলাদেশ সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম ঘোষণা করে। ১৯৭০-এর দশকে তেলসংকটের প্রেক্ষাপটে কেইনসীয় অর্থনৈতিক মডেলের কার্যকারিতা নিয়ে যে বিতর্ক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল, তা নিরসনে তাদের তাত্ত্বিক অবদানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ রবার্ট ই হল এবং মাইকেল উডফোর্ড। অর্থনীতির উত্থান-পতন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি প্রণয়নের পথ দেখিয়েছেন চলতি বছরের অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী রবার্ট ই। তাদের উদ্ভাবিত নতুন সামষ্টিক অর্থনৈতিক মডেল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। অর্থনীতিতে কখনও মন্দা দেখা দেয়, আবার কখনও দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটে। প্রায় এক শতাব্দী আগে অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনসের তত্ত্বের পর থেকে এসব ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে স্থিতিশীলতামূলক নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব নীতি বেকারত্ব কমাতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয় বলে সমালোচনা করা হয়।
এর আগে পর্যায়ক্রমে চলতি বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ৫ অক্টোবর চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পান মার্কিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও নিউরোলজিস্ট কার্ল ডাইসেরথ এবং জার্মান বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল। ৬ অক্টোবর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান বেলজিয়ামের পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজ্যান। পরের দিন ৭ অক্টোবর রসায়নে নোবেল পান ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগান ও জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই। এছাড়াও ৮ অক্টোবর সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী হিসেবে কানাডীয় কবি ও লেখক অ্যান কারসনের নাম ঘোষণা করা হয়। ৯ অক্টোবর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। এর আগে ২০২৫ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জোয়েল মোকির, ফিলিপ আগিয়োঁ ও পিটার হাউইট।
উল্লেখ্য যে, ১৯০১ সালে আলফ্রেড নোবেলের উইল অনুযায়ী এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার প্রদানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের এই পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়, যা বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হয়। এবছর অর্থনীতির ক্ষেত্রে রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ডের কাজ আধুনিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থনৈতিক মন্দার সময় সুদের হার কমানো ও সরকারি বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর মাধ্যমে চাহিদা বাড়ানো হয়। বিপরীতে, অর্থনীতি অতিরিক্ত চাঙা হয়ে উঠলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো ও সরকারি ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ আশরাফুল জাহান শাওলিন। যোগাযোগঃ হোল্ডিং নং- ০১, ( আব্দুর রব মঞ্জিল), ঘোষপাড়া, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর- ৩৬৪০। ই-মেইলঃ ajshawlin2007@gmail.com, মোবাইলঃ 01920565995
Design & Developed by Soft-Mack IT