
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীবেশে কৌশলে লাগেজ চুরির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ ঘটনায় জসিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে চুরি হওয়া তিনটি লাগেজের পুরো মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। গত ২১ অক্টোবর এপিবিএনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চুরি হওয়া তিনটি লাগেজে আনুমানিক ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১২ অক্টোবর সকালে, যখন ওমান থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে আসা তিন যাত্রী—মোহাম্মদ হাসান, সাদিক রহমান এবং মো. রাকিবের লাগেজ খোয়া যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি মোঘল এপিবিএনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে জসিমকে শনাক্ত করে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে গত ২০ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় ফজলে রাব্বি মোঘল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তদন্তের স্বার্থে এপিবিএন বিমানবন্দর থানা এবং চাঁদপুরের কচুয়া থানার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানের মাধ্যমেই চাঁদপুরের কচুয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং চুরি হওয়া মালামাল জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার মান নিয়ে জনমনে নানা সময় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রুটের যাত্রীদের মূল্যবান মালামাল হারানো বা চুরির অভিযোগগুলো কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এবারের ঘটনাটিতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং একাধিক থানার সমন্বিত প্রচেষ্টায় খুব দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানবন্দরে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিকায়ন করা জরুরি, যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন এবং মালামাল নিরাপদ থাকে।
