
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে ফেরার পথে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানকে তিন ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। সফরের শেষে ফিরে আসার পর তাঁকে কেবল দীর্ঘ সময় বসিয়েই রাখা হয়নি, বরং ৫০ হাজার রুপি জরিমানাও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে কেন জরিমানা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁর কাছে থাকা মালপত্র ও অর্থের পরিমাণ নিয়মের চেয়ে বেশি ছিল এবং সেগুলোর ঘোষণা করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁকে যেতে দিলেও বিভিন্ন কারণে মুখ্যমন্ত্রীকে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা দিতে হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থও নাকি তাঁদের সঙ্গে ছিল। রাবণের ঔদ্ধত্যও দসেরার দিন শেষ হয়েছিল।’।
মুখ্যমন্ত্রীর দল আম আদমি পার্টি (আপ) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
আপের অভিযোগ, ভগবন্ত সিংয়ের বিদেশ সফর আটকাতে ব্যর্থ হয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এখন এই হেনস্তার আশ্রয় নিয়েছে।
দলের দাবি, আদালতের নির্দেশেই মুখ্যমন্ত্রী প্যারিসে আন্তর্জাতিক খাদ্যবাণিজ্য প্রদর্শনী ‘এসআইএএল প্যারিস ২০২৬’-এ যোগ দিতে গিয়েছিলেন, যেখানে রাজ্যের বিশেষ ছোলা ও রাজমার প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্র বারবার তাঁকে বিদেশ সফরের অনুমতি দিতে অনীহা দেখিয়েছিল। তাঁকে এর আগে চারবার বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রথমে বলা হয়, তাঁর মাল আসতে দেরি হচ্ছে। তারপর বলা হয়, সেসব পরীক্ষা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ পেয়ে ফ্রান্স যান। বিতর্কিত কৃষি আইনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে দুই দলের বিচ্ছেদ ঘটে।
পাঞ্জাব আম আদমি পার্টির মিডিয়া ইনচার্জ বলতেজ সিং পান্নু এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন, সরকারি কর্তারা তাঁদের কাছে স্বীকার করেছেন যে ওপরমহলের প্রবল চাপের কারণেই তারা মুখ্যমন্ত্রীকে আটকে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রটোকল মানা হয়নি এবং কেন্দ্রীয় সরকার পাঞ্জাবিদের অসম্মান করার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করতে চায় না। হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে উপযুক্ত প্রটোকল অনুযায়ী সম্মান দিতে হবে। তা সত্ত্বেও প্যারিসের কনসাল জেনারেল তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি।
দিল্লির আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ এই ঘটনাকে কেন্দ্রের ঔদ্ধত্য হিসেবে অভিহিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে পাল্টা অবস্থানে রয়েছে বিরোধী শিরোমনি অকালি দল। দলের নেতা বিক্রম সিং মাজিথা দাবি করেছেন, নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত মালপত্র ও অর্থ বহনের কারণেই মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী গুরপ্রীত সিং কৌরের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিল্লির আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজও এ নিয়ে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে এক পোস্ট করেন। গতকাল রাতের সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘কেন্দ্রের এই ঔদ্ধত্য এবার শেষ হওয়া দরকার।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী যখন বিমানবন্দরে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি, ঠিক সেই সময়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পাঞ্জাব সফরে ছিলেন। সফরকালে শাহ ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঞ্জাবকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি আপ সরকারের বিরুদ্ধে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বলেন, বর্তমান সরকার রাজ্যকে মাদকাসক্ত করে তুলেছে। পান্নুর অভিযোগ, ভগবন্তকে দিল্লি বিমানবন্দরে অপেক্ষা করানো হয় মালপত্রের অজুহাত দেখিয়ে। মাদকমুক্ত পাঞ্জাব গড়ে তোলা তাঁর অঙ্গীকার।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপি ও অকালি দলের পুনর্মিলনের যে আভাস মিলছে, এই ঘটনা তার একটি অংশ হতে পারে। এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ আগামীতে পাঞ্জাবের নির্বাচনী লড়াইকে আপ বনাম কংগ্রেস এবং বিজেপি-অকালি জোটের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতায় পরিণত করতে পারে। ২০২৭ সালের গোড়ায় পাঞ্জাব বিধানসভার নির্বাচন উপলক্ষে বিজেপি ও অকালি দল আবার কাছাকাছি আসতে চলেছে। এই জোট বাস্তবায়িত হলে পাঞ্জাবের ভোট আরও একবার ত্রিমুখী লড়াই হবে।
