
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইটের ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে সৌদিগামী এবং সৌদি হয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। ফলে শুধু সৌদি আরবগামী যাত্রীরাই নন, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়ার জন্য এসব এয়ারলাইনসের সংযোগকারী ফ্লাইট ব্যবহার করা যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা ও ফ্লাইট পরিচালনা বিভাগের স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাকিব শুক্রবার রাতে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, সরাসরি এবং ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এর ফলে অনেক যাত্রীই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা ও ফ্লাইট পরিচালনা বিভাগের স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাকিব এ তথ্য জানান।
বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১৫টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের ওপরও বড় প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের আটটি, এয়ার ইন্ডিয়ার আটটি, সালাম এয়ারের সাতটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।
মূলত গত ১০ অক্টোবর রাতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। সেই হামলায় বাংলাদেশের দুই নাগরিক বগুড়ার শাজাহানপুরের মো. শাহেদ আহমেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বদরপুরী নিহত হন। এছাড়া বাংলাদেশিসহ প্রায় ৩০৯ জন আহত হন। এ ঘটনায় বাংলাদেশিসহ অন্তত ৩০৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচলে অনিশ্চয়তা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যাত্রীদের সময় ও অর্থের অপচয় ঘটছে, অনেকে বিকল্প ফ্লাইটের আশায় অপেক্ষা করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেকের যাত্রা পিছিয়ে গেছে, আবার কেউ কেউ বিকল্প ফ্লাইটের অপেক্ষায় রয়েছেন।
