
চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ভাগ্নিকে মোটরসাইকেল চালানো শেখাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র মো. ফজলে রাব্বি (২১) নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ১৪ বছর বয়সী ভাগ্নি ইশাতও মৃত্যুবরণ করেছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় দুই পরিবারের স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে মতলব সেতুর দক্ষিণ অংশের সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলে রাব্বি মতলব দক্ষিণ পৌর এলাকার বাইশপুর বেপারী বাড়ির বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত ইশাত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মো. জুয়েল বাংলাদেশ সচিবালয়ের একজন গাড়িচালক। পরিবারসহ ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বসবাসকারী ইশাত ঈদুল আজহা উপলক্ষে মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি মতলবে বেড়াতে এসেছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর কালাইয়া এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ফজলে রাব্বি তার ভাগ্নি ইশাতকে মোটরসাইকেল চালানো শেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা সড়ক মেরামত কাজে নিয়োজিত সড়ক বিভাগের একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুজনই গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফজলে রাব্বিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইশাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেও মৃত্যুর কাছে হার মেনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মামা ও ভাগ্নি দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একটি আনন্দময় ঈদকে সামনে রেখে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসা কিশোরী ইশাত এবং তাকে মোটরসাইকেল চালানো শেখাতে গিয়ে প্রাণ হারানো কলেজছাত্র ফজলে রাব্বির মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
