
শিমুল হোসেন, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ১২ নম্বর মৌতলা ইউনিয়নের পানিয়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত জমি দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই গ্রামের জহুর আলী গাজী, মর্জিনা খাতুন ও আব্দুস সাত্তার সরদারের বিরুদ্ধে জমি দখল, হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুর রব। নিজের জমি ফিরে পেতে এবং বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও মামলাসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনা জানা যায়।
অভিযোগকারী আব্দুর রব পানিয়া গ্রামের মৃত রূপচাঁদ গাজীর ছেলে। তাঁর অভিযোগ, একই গ্রামের নেপাল গাজীর ছেলে জহুর আলী গাজী, মেয়ে মর্জিনা খাতুন এবং মৃত শামসুর রহমানের ছেলে আব্দুস সাত্তার সরদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে তিনি ২০১১ সালে বিজ্ঞ আদালতে ২১০/১১ নম্বর মামলা দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ০৪/০৯/২০১৪ সালে ওই মামলায় তিনি আদালতের ডিক্রি লাভ করেন। আব্দুর রবের ভাষ্য, জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের পাশাপাশি পুলিশ সুপারের কার্যালয়, থানা ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে এবং বিচার-সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাঁর অভিযোগ, আদালতের ডিক্রি ও বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্যোগের পরও প্রতিপক্ষরা বিরোধপূর্ণ জমি নিজেদের দখলে রেখেছেন।ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, পানিয়া মৌজার জেএল নম্বর ১৬৭-এর ১২৮৭, ১২৮৯ ও ১২৯০ নম্বর দাগের জমি নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে তাঁর বাবা মৃত রূপচাঁদ গাজীর নামে ১২৮৭ নম্বর দাগে ৫ শতক জমি এবং সংশ্লিষ্ট জমিসহ মোট ৫০ শতক জমির মালিকানা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান আব্দুর রব।তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন সময় তাঁকে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন এবং মারধরের ভয় দেখিয়েছেন। এতে নিজের সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করা নিয়ে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।ভুক্তভোগী আব্দুর রব বলেন, “জমির স্বপক্ষে আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। এ বিষয়ে আদালত থেকেও আমি ডিক্রি পেয়েছি। তারপরও দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধের অবসান হচ্ছে না। নিজের জমি থাকা সত্ত্বেও তা ভোগদখল করতে না পারা অত্যন্ত কষ্টের। আমি চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। ন্যায়বিচারের মাধ্যমে যেন আমি আমার জমি ফিরে পেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করতে পারি। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভূমি কর্মকর্তাদের কাছে জমির কাগজপত্র এবং আদালতের নথি যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত জহুর আলী গাজী, মর্জিনা খাতুন ও আব্দুস সাত্তার সরদারের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
