শিরোনাম
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান ১লা নভেম্বর থেকে সব খাবার ব্যবসায় লাইসেন্স বাধ্যতামূলক ওয়্যারেবল এআই: নিত্যসঙ্গী নাকি গোপনীয়তায় হানা? দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের বিমানবন্দরগুলো এ্যানি ফেরদৌসের কন্যা তাসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু: শোকস্তব্ধ কমিউনিটি ৫ দফা দাবিতে রামেক হাসপাতালে ইন্টার্নদের ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ফরাসি শিক্ষার্থীদের নতুন স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ’: নেপথ্যে কি পুলিশ? জরিমানাও করা হলো: পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে দিল্লির বিমানবন্দরে হেনস্থার রুটস ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত তালিকায় দা নাং বিমানবন্দর
  • প্রচ্ছদ
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • ওয়্যারেবল এআই: নিত্যসঙ্গী নাকি গোপনীয়তায় হানা?
  • ওয়্যারেবল এআই: নিত্যসঙ্গী নাকি গোপনীয়তায় হানা?

    সকাল ৮টার দিকে অফিসের পথে বাসে বসে নুসরাত নামের এক কর্মী তাঁর সহকর্মীর গলার লকেটের দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হলেন। সহকর্মী জানালেন, সেটি কোনো গয়না নয়, বরং একটি ওয়্যারেবল এআই ডিভাইস। এটি সারাক্ষণ আশেপাশের আলাপচারিতা শুনে দিনশেষে তার সারাংশ তৈরি করে দেয়। নুসরাত অস্বস্তিতে পড়লেন এই ভেবে যে, তাঁর অজান্তেই যন্ত্রটি সব কথা রেকর্ড করছে অথচ কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি। নুসরাত কিছুটা অবাক, কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে ভাবলেন, তাহলে তো এই যন্ত্র আমার কথাও শুনছে, অথচ আমার সম্মতিই নেয়নি। অফিসের পথে বাসে বসে নুসরাত (ছদ্মনাম) হঠাৎ খেয়াল করলেন, তাঁর সহকর্মীর গলায় ঝোলানো ছোট্ট একটা পেনডেন্ট বা লকেট, যেটা আসলে কোনো গয়না নয়। ‘এটা কী।

    প্রযুক্তি বিশ্বে এখন ওয়্যারেবল বা পরিধানযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় উত্থান ঘটছে। স্মার্টফোনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো এমন সব ডিভাইসে বিপুল বিনিয়োগ করছে, যা সবসময় শরীরে ঝোলানো বা পরা থাকবে। একটি প্রতিষ্ঠান চলতি বছরেই প্রায় এক কোটি এমন ডিভাইস বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। শুধু স্মার্ট চশমার ক্ষেত্রে একটি কোম্পানি গত বছর প্রায় ৭০ লাখ ইউনিট বিক্রি করেছে, যা এই বাজারের দ্রুত প্রসারের স্পষ্ট প্রমাণ। শুধু এই একটা প্রতিষ্ঠানই গত বছর প্রায় ৭০ লাখ স্মার্ট চশমা বিক্রি করেছে, যা বলে দেয় বাজারটা কতটা দ্রুত বড় হচ্ছে। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এখন স্মার্টফোনের পরের ধাপ হিসেবে এমন সব যন্ত্রে বিনিয়োগ করছে, যা সব সময় শরীরে পরিধেয় হয়ে থাকবে আর চারপাশের কথাবার্তা থেকে সাহায্য নিয়ে আসবে সরাসরি।

    কেন সবাই পেনডেন্ট ও স্মার্ট চশমার দিকে ঝুঁকছে? স্মার্টফোনের মতো টাইপ করার ঝামেলা ছাড়াই এই ডিভাইসগুলো ব্যবহারকারীকে সার্বক্ষণিক এআই সংযোগ দেয়—হোক তা কথা বলা, দেখা, বা চোখের ইশারা। সভার সারাংশ তৈরি, কাজের তালিকা ব্যবস্থাপনা কিংবা হারিয়ে যাওয়া তথ্য খুঁজে বের করার মতো কাজে এগুলো দক্ষ। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন দলবদ্ধভাবে এসব ডিভাইস কিনে কর্মীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। ফোনে হাত দিয়ে টাইপ করে প্রশ্ন করার বদলে এই ডিভাইসগুলো ধরে নেয়, ব্যবহারকারী পুরো দিনটাই এআইয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন—কথা বলে, দেখিয়ে, এমনকি চোখের ইশারায়।

    তবে উদ্বেগের বড় কারণ হলো গোপনীয়তা।

    এই ডিভাইসগুলো শুধু ব্যবহারকারীর নয়, তার আশেপাশের প্রত্যেকের অজান্তেই কথোপকথন রেকর্ড করছে।

    এর আগে গোপনীয়তার ঝুঁকি ও বাস্তব উপযোগিতার অভাবে অনেক কোম্পানি এই ধরনের পণ্য বাজারে এনে ব্যর্থ হয়েছিল। বর্তমান মডেলগুলো অবশ্য ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। তবু সারাক্ষণ রেকর্ড করা আলাপ কোথায় সংরক্ষিত থাকছে এবং কতদিন থাকছে, সে বিষয়ে ব্যবহারকারীদের কাছে স্বচ্ছ তথ্যের বড় অভাব রয়েছে।

    বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর হার্ডওয়্যার বিভাগ বছরের পর বছর লোকসানে থাকলেও বাজার দখলের লড়াইয়ে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার দিকগুলো অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। সুবিধাজনক মনে হলেও, অন্যের অজান্তে তার কথা রেকর্ড করার বিষয়টি নৈতিক ও আইনি উভয় সংকটই তৈরি করছে।

    নুসরাত পরবর্তীতে নিজেই একটি স্মার্ট চশমা কিনলেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করেন। নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন

    1. অফিসে এমন ডিভাইস ব্যবহারের আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা যাচাই করুন—কোন তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, আর কর্মী ছেড়ে দিলে সেই তথ্যের কী হবে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
    2. অন্যের সঙ্গে কথা বলার সময় ডিভাইসটি রেকর্ড করছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানিয়ে দেওয়াটাই ভদ্রতা আর অনেক জায়গায় আইনি বাধ্যবাধকতাও। সেটা মেনে ব্যবহার করুন।
    3. সংবেদনশীল আলোচনার সময় (পারিবারিক, চিকিৎসা বা আর্থিক বিষয়) ডিভাইসটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

    প্রযুক্তির এই সুবিধা আমাদের বন্ধু নাকি গুপ্তচর—সেটা অনেকাংশে নির্ভর করছে ব্যবহারের কৌশলের ওপর। আমরা কাকে শোনার অনুমতি দিচ্ছি, আর কাকে দিচ্ছি না—এই সিদ্ধান্তই ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার চাবিকাঠি।

    আরও পড়ুন

    স্বয়ংক্রিয় কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট
    এ বছরের সেরা ইমোজি: আধুনিক ডিজিটাল যোগাযোগের নতুন ভাষা
    প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী মার্কিন প্রতিষ্ঠান
    গৌরব ও ঐতিহ্যের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
    সচিবালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন ডা. মুরাদ
    ইন্টারনেট ছাড়াই চলবে ফেসবুক মেসেঞ্জার
    ফেসবুকের নাম পরিবর্তন | নতুন নাম দেয়া হয়েছে “মেটা”
    কুমিল্লার ঘটনায় আইন হাতে তুলে নেবেন না : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী