
- সমির ভট্টাচার্য্য ঃ
মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঊষার স্পাের্টিং ক্লাবের ২৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরষ্কার বিতরণী ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মরণোত্তর সম্মাননা পেলেন সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ড এবি সিদ্দিক।
এবি সিদ্দিক মতলব পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বরদীয়া সরকার বাড়ীর মরহুম হাসান আলী সরকারের ছেলে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারী ১৯২৯ সালে জন্ম গ্রহন করেন এবং ৩রা সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে মৃত্যু বরন করেন মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ২ ছেলে ও ১মেয়ে রেখে গেছেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিকেলে মতলব নিউ হোস্টেল মাঠে ঊষার স্পোর্টিং ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ডক্টর শামসুল আলম মোহনের কাছ থেকে সম্মাননা স্মারক গ্রহন করেন মরহুম এবি সিদ্দিকের ছেলে জাবেদ হাসান সিদ্দিকী ।
এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান বি এইচ এম কবির আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেনু দাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লিয়াকত হোসেন প্রধান মতলব পৌরসভার মেয়র আওলাদ হোসেন লিটন, ওসি মোঃ সাইদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য এবি সিদ্দিক রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে ডিসটিংশন মার্কসহ ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্স ডিগ্রী ম্যাট্রিকুলেশনে মহসীন ষ্টাইপেনড এবং ইন্টার মিডিয়েট ও অনার্সে প্রথম শ্রেণীর সরকারী বৃত্তি প্রাপ্ত। মিঃ জিন্নাহ “উর্দু কেবল উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হবে” ঘোষণা দিলে যে সব ছাত্র তার প্রতিবাদ করে, তাদের অন্যতম তিনি ।
১৯৪৮ ইং সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের হরতালের সমর্থনে পিকেটিং এর জন্য কারাবরণ। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বঙ্গবন্ধুরও সেটাই প্রথম কারাবরণ। ১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরে মরহুম ওয়ালিউল্লাহ পাটওয়ারীর উদ্যোগে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন উপাচার্য ডঃ এম. হোসেনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতিতে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তনের প্রধান শিক্ষকদের সম্মেলনে “উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা ” হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রচেষ্টাকে কঠোর প্রতিবাদ করেন।
১৯৫১ইং সালে ক্যাডেট হিসাবে রাজকীয় পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগদানের পর ১৯৫২ইং সালে কমিশন প্রাপ্তি । কোয়েটা, কোহাট, রিসালপুর কলেজে (বাঙ্গালী প্রথম এবং শেষ কলেজ এডজুটেন্ট) কার্যরত থাকার পর ১৯৫৮ইং সালের শেষ দিকে রিক্রুটিং অফিসার এবং ও. সি সি এন্ড এফ. হিসেবে চট্টগ্রামে দায়িত্ব গ্রহণ ।
১৯৬৪ইং সালে স্বেচ্ছায় বিমানবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত বাঙ্গালীর স্বার্থ সম্পর্কিত সকল আন্দোলন কর্মকান্ডে যোগদান । ১৯৭০ইং সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বৃহত্তর মতলব শাখার সভাপতি এবং চাঁদপুর মহকুমা (বর্তমান জেলা) আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত। ১৯৭৯ইং সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামীলীগের (মিজান৷) থেকে নির্বাচিত হন ।
১৯৮৬ইং সালের নির্বাচনে প্রথমে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণার ২ (দুই) দিন পর এরশাদ সরকার কর্তৃক ৪(চারটি) কেন্দ্রে গন্ডগোলের মিথ্যা অজুহাত, এনে পুনঃ নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা ভোট দিয়ে জাতীয় পার্টি প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা । ১৯৯৬ইং সালে ষড়যন্ত্রকারীদের কারণে আনুমানিক ৪০০০ (চার হাজার) ভোটের ব্যবধানে। পরাজিত ।
স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হলে চাঁদপুর মহকুমা (বর্তমানে জেলার) প্রথম ও প্রধান সংগঠক হিসেবে মুক্তিবাহিনীর দায়িত্ব গ্রহণ ।
স্বাধীনতার পর বৃহত্তর মতলব থানার (২২টি ইউনিয়ন) এডমিনিষ্ট্রেটর হিসেবে নিয়োগ। এফ, এফ ও বি, এল এফ এর মধ্যকার ভুল বুঝাবুঝি আস্থাহীনতা দূরীকরণ এবং পূর্ণ সততা ও শান্তি শৃঙ্খলার সহিত এলাকার পুর্নগঠনে সফলতাসহ আরো অনেক কৃতিত্ব রেখে গেছেন ।
কয়াপশনঃ পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম মোহনের কাছ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহন করেন মরহুম এবি সিদ্দিক সাহেবের ছেলে মোঃ জাবেদ হাসান ছিদ্দিকী ।
