শিরোনাম
মুফতি আমির হামজার হলফনামায় ১৪ অসংগতি, তদন্তের আবেদন শ্রমিক আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের দায়ভার সরকারেরই, দাবি নাহিদ ইসলামের শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সীতাকুণ্ডে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যান্ড কলেজে সায়েন্স অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত মতলবে কুখ্যাত নাহিদ ডাকাত গ্রেপ্তার, একাধিক হত্যা ও ডাকাতি মামলার আসামি ২৭ মাস পর স্বমহিমায় ভবানীগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ হাতেম আলী চট্টগ্রাম বন্দরকে বছরে ২২৪ কোটি টাকা গৃহকর প্রদানের নির্দেশ ১১নং পশ্চিম ফতেপুর ইউনিয়নের উত্তর রাঢ়ীকান্দী জামে মসজিদে দোয়া চাইলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এম ইলিয়াস আলী মসজিদে নববীর স্বয়ংক্রিয় ছাতা: প্রযুক্তি ও নান্দনিকতার অনন্য মিশেল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি
  • প্রচ্ছদ
  • খেলাধুলা
  • ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন মাথাব্যথা লিসান্দ্রো মার্তিনেজ
  • ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন মাথাব্যথা লিসান্দ্রো মার্তিনেজ

    ফুটবল মাঠে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ধৈর্যই সবচেয়ে বড় অস্ত্র, কারণ ছোট একটি ভুলই পুরো দলের বিপদ ডেকে আনতে পারে। কারণ, একটা ভুলের মাশুল দিতে হয় পুরো দলকে।

    কিন্তু লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সাম্প্রতিক আচরণ সেই শৃঙ্খলার পরিপন্থী। গত শনিবার চেলসির বিপক্ষে ম্যাচে মাঠ ছাড়ার দৃশ্যটি যেন সেই অস্থিরতারই প্রতিফলন। ম্যাচ চলাকালীন আগে মরগান রজার্সকে ফাউল করার পর ওয়েসলি ফোফানার ওপর যেভাবে মার্তিনেজ চড়াও হন, তা ছিল পুরোপুরি অযৌক্তিক। বলের দখল নেওয়ার কোনো সুযোগ ছাড়াই ফরাসি ডিফেন্ডারের ওপর তাঁর সেই ঝাঁপিয়ে পড়া ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের মাথা যে সেদিন কতটা গরম ছিল, তা বুঝতে তাঁর মাঠ ছাড়ার দৃশ্যটা একবার চোখের সামনে আনতে হবে। পরক্ষণেই ওয়েসলি ফোফানার দিকে উড়ে গেলেন হাত উঁচিয়ে। ক্যারিকের মুখের দিকে তাকানোর সাহসটুকুও যেন ছিল না তাঁর।

    এই ঘটনার রেশ ধরেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্দরমহলের বিশৃঙ্খলা আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। ম্যাচে লাল কার্ড দেখার আগে রজার্সকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার। এরপর মাত্র সাড়ে তিন মিনিটের ব্যবধানে রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া তো দূরের কথা, পিটার ব্যাংকসের সাথে তর্কে জড়াতে দেখা যায় তাঁকে। ভিএআর যাচাইয়ের পর মার্তিনেজকে সরাসরি মাঠ ছাড়তে হয় এবং চেলসি পেনাল্টি পায়। সতীর্থরা তাঁকে টেনে সরিয়ে না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতো। উত্তর খুঁজতে গেলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ড্রেসিংরুমের দিকে তাকাতে হবে। লাল কার্ডের সঙ্গে চেলসিকে পেনাল্টিও দিলেন।

    কোচ মাইকেল ক্যারিক অবশ্য এর আগে মার্তিনেজের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। ক্লাবের পরিচালকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করা বা টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের সমালোচনা করার পরও কোচ তাঁকে দলে সুযোগ দিয়েছেন। অক্টোবরে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হারের পর মার্তিনেজ দলবদলের নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে তাঁর সেই ক্ষোভ বা সাহসের কোনো ইতিবাচক প্রতিফলন নেই। বরং চেলসির প্রথম গোলের সময় তাঁর রক্ষণের ব্যর্থতা ছিল স্পষ্ট। রেকর্ড ট্রান্সফার ফি দিয়ে কেনা চেলসির উইঙ্গার তাঁকে ফাউল করেছিলেন, সেটি সম্ভবত ভালো লাগেনি মার্তিনেজের। মার্তিনেজের মধ্যে অভিযোগ আছে, ক্ষোভ আছে, অসন্তোষ আছে। অথচ এই ক্যারিকই তাঁকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিয়েছিলেন। অনেক কোচ হলে হয়তো দল থেকেই বের করে দিতেন। তাঁর কথায়, ‘আমি আমাদের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা করি। কথাটা বলার অধিকার নিশ্চয়ই তাঁর আছে।

    মার্তিনেজের ইউনাইটেড ক্যারিয়ার পরিসংখ্যানও তেমন উজ্জ্বল নয়। গত চার বছর ছয় মাসে প্রিমিয়ার লিগে তিনি মাত্র ৭২ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। চোটের কারণে তাঁকে দীর্ঘ ৬০৯ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে। ২০২২ সালে আয়াক্স থেকে ৪ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে এরিক টেন হাগের হাত ধরে ইউনাইটেডে আসেন তিনি। এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, জানুয়ারিতে তাঁকে বিক্রি করে দিলেও ক্লাবের কোনো আক্ষেপ থাকবে না বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২২ সালে আয়াক্সে এরিক টেন হাগের প্রিয় শিষ্য ছিলেন মার্তিনেজ। সেই টেন হাগই ইউনাইটেডকে রাজি করিয়েছিলেন তাঁকে ৪ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডে কিনতে।

    আমস্টারডামে থাকাকালীন ‘দ্য বুচার’ বা কসাই হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই ডিফেন্ডারকে ইউনাইটেডে এসে চেনা যাচ্ছে না। তাঁর ট্যাকলিংয়ের টাইমিং এখন এতটাই এলোমেলো যে, তা দলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরে এটি তাঁর দ্বিতীয় লাল কার্ড। গত এপ্রিলে লিডসের বিপক্ষে ডমিনিক কালভার্ট-লুইনের চুল ধরে মাঠ ছেড়েছিলেন তিনি। সেবার কোচ ক্যারিক রেফারির সমালোচনা করলেও, এবার তিনি চুপ থেকেছেন।

    জাতীয় দলের হয়ে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সঙ্গে মার্তিনেজের জুটি এবং বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা দারুণ হলেও, ক্লাবের জার্সিতে তিনি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর্জেন্টিনা দলের সেই আত্মবিশ্বাসী রক্ষণযোদ্ধাকে ইউনাইটেডের রক্ষণে খুঁজে পাওয়া দায়। সেখানে তিনি প্রায়শই একা হয়ে পড়েন এবং নিজের খেলায় ধ্বংসাত্মক সব দিক ফুটে ওঠে। সেখানে যুক্তিবুদ্ধির উপস্থিতি অনেক দিন ধরেই অনিয়মিত।

    একজন খেলোয়াড়ের ডাকনাম ‘কসাই’ হওয়া ফুটবলে আগ্রাসনের প্রতীক হতে পারে, কিন্তু সেই আগ্রাসন যখন নিজের দলেরই পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন সমর্থকদের বিরাগভাজন হওয়াটাই স্বাভাবিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁকে ইউনাইটেডের বর্তমান দুর্দশার জন্য ‘গোলমাল পাকানো লোক’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। চেলসির বিপক্ষে ২-০ গোলে হারটি মার্তিনেজের লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনার মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ সংকটেরই এক চিত্র তুলে ধরেছে। ক্ষমা চেয়েও শেষ পর্যন্ত শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পাননি এই আর্জেন্টাইন।

    আরও পড়ুন

    রবি বোলার হান্ট: ২১ প্রতিভাকে খুঁজে পেল বিসিবি ও রবি
    মুল্ডার ও রিকেলটনের সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৮৮ রানের লক্ষ্য
    নাঈমের স্পিন ঘূর্ণিতে ২৪৫ রানে থামল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
    ভৈরবে বন্ধুসভার মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচে জয়ী লাল দল
    এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি: জাপানের কাছে ১-০ ব্যবধানে হার বাংলাদেশের
    গাজার শিশুদের সাহায্যে দেড় কোটি টাকা তুললেন হামজা চৌধুরী
    অ্যান্ডারসনকে অসম্মানজনক বিদায় জানিয়েছে ল্যাঙ্কশায়ার, ক্ষুব্ধ স্টুয়ার্ট ব্রড
    সানজিদাদের বিদায় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালে কৃষ্ণা-সুমাইয়ারা