
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে আবারও জয়ী হয়েছেন সোমালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক ইলহান ওমর। মিনেসোটার মিনিয়াপলিসের ৫ নম্বর সংসদীয় আসন থেকে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। ৯৯ শতাংশ ভোট গণনার তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ বছর বয়সী ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী ওমর তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলের লেসি জনসনকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। নির্বাচনে ওমর মোট ভোটের ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ পেয়েছেন, যেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ৬৬ বছর বয়সী উদ্যোক্তা লেসি জনসন পেয়েছেন মাত্র ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। মিনেসোটার মিনিয়াপলিসের মিনেসোটা ৫ নম্বর সংসদীয় আসন থেকে তিনি কংগ্রেসে দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হলেন। ইলহান প্রায়শই প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য রিপাবলিকানের সমালোচনা ও মানহানিকর মন্তব্যের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। ৬৬ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
জয়ের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ইলহান নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ধন্যবাদ, মিনেসোটা। “জনগণের প্রতিনিধি পরিষদে” আবারও এত বিপুল জনরায় নিয়ে আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি।’ তিনি দৃঢ় কণ্ঠে আরও যোগ করেন, ‘আমরা ট্রাম্পকে আমাদের কণ্ঠ থামিয়ে দিতে দেব না।’
উল্লেখ্য যে, ইলহান ওমর মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম সোমালীয় বংশোদ্ভূত সদস্য।
২০১৮ সালে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন হিসেবে তিনি রাজনীতিতে পরিচিতি পান। সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ২০১৬ সালে মিনেসোটা রাজ্য আইনসভায় নির্বাচিত হয়ে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল চার নারী সংসদ সদস্যের ‘স্কোয়াড’-এর একজন সদস্য, যেখানে রাশিদা তালিব, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ এবং আয়ানা প্রেসলিও রয়েছেন। এই চার রাজনীতিক দলের মূল নেতৃত্বের বাইরে নতুন ধারার রাজনীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই চার তরুণ, প্রগতিশীল নারী রাজনীতিকদের নতুন উদীয়মান একটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন, যাঁরা ডেমোক্রেটিক পার্টির হাউস নেতৃত্বকে নতুন ধারায় পরিচালিত করছেন।
উদারপন্থী বিভিন্ন ইস্যুতে জোরালো অবস্থান, ইসরায়েলবিরোধী মন্তব্য এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবে তিনি বারবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন। গত মাসে নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প ইলহানকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। ট্রাম্প তাঁকে মার্কিন নাগরিক নন বলে অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর বাড়িতে তল্লাশিও চালায়। এসবের কড়া জবাব দিয়ে ইলহান প্রেসিডেন্টকে ‘বর্ণবাদী’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও ইলহান বেশ সরব। তিনি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মার্কিন জোটের কড়া সমালোচক। গত বছর আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই জোটকে নীতিবিবর্জিত ও অদ্ভুত বলে অভিহিত করে বলেছিলেন, এটি কোনোভাবেই আমেরিকার মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী লেসি জনসন মূলত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একজন উদ্যোক্তা, যিনি প্রথমবারের মতো কংগ্রেস নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। আমি মনে করি, এটি সবচেয়ে অদ্ভুত জোটগুলোর একটি; যা আমাদের কোনো মূল্যবোধের সঙ্গেই মেলে না।’।
