শিরোনাম
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসবিদ এ এফ এম আব্দুল জলীলের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারালেও নির্বাহী ক্ষমতায় সরব থাকার ছক ট্রাম্পের রবি বোলার হান্ট: ২১ প্রতিভাকে খুঁজে পেল বিসিবি ও রবি তাহসিফ সাউরি মৃত্যু: দীপ ও তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলো হোসেন মটরস মহানগর ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট কংগ্রেস হারালে ‘মিস্টার ভেটো’ হবেন ট্রাম্প, জানালেন নিজেই এইচএসসিতে নজিরবিহীন ফল বিপর্যয়কে শিক্ষার জন্য বড় অশনিসংকেত বললেন চিকিৎসক শাহজালাল বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫ বছর বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ ভারতে বাংলাদেশি পর্যটক কমেছে ৭৩ শতাংশ, কলকাতার ব্যবসায় পতন
  • প্রচ্ছদ
  • আন্তর্জাতিক
  • মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারালেও নির্বাহী ক্ষমতায় সরব থাকার ছক ট্রাম্পের
  • মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারালেও নির্বাহী ক্ষমতায় সরব থাকার ছক ট্রাম্পের

    যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের দখলে চলে যাওয়ার পূর্বাভাসের মধ্যেই বিকল্প কৌশল সাজাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলীয় পরাজয় ঘটলেও নিজের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হোয়াইট হাউস প্রধানত প্রেসিডেন্টের বিশেষ নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নির্ভর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের সম্ভাব্য জোরদার তদন্ত ও নজরদারি মোকাবিলার প্রস্তুতিও যৌথভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে। অন্তত জনমত জরিপে এমনটাই আভাস দেওয়া হচ্ছে।

    নির্বাচনী লড়াইয়ে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮-২১৪ আসনে এগিয়ে রয়েছে রিপাবলিকানরা। অন্যদিকে সিনেটে ৫৩-৪৭ আসনে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিদ্যমান। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে নিজেদের বর্তমান অবস্থান বজায় রেখে ডেমোক্র্যাটদের বাড়তি চারটি করে আসনে জয়ী হতে হবে। একাধিক জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিরোধীরা এই সাফল্য পেতে পারে। সিনেটে দুই দলের আসনসংখ্যা যথাক্রমে ৫৩ ও ৪৭। এতে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সব, তথা ৪৩৫টি আসন এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের এক-তৃতীয়াংশ ৩৫ আসনে ভোট হবে।

    আইনসভার সম্ভাব্য এই নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন সামাল দিতে হোয়াইট হাউসের ভেতরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে দীর্ঘ সময় ধরে। গত এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হওয়া এই গোপন পরিকল্পনা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং বাজেট পরিচালক রাসেল ভোট। আইনপ্রণেতাদের নতুন অনুমোদনের মুখাপেক্ষী না হয়েও কীভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখা যায়, আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা সেই পথ খতিয়ে দেখছেন। ট্রাম্প নিজেই এসব নীতি নির্ধারণী আলোচনায় অংশ নিয়েছেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত আছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও দুই ব্যক্তি এই উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ও পরিকল্পনার বিষয়ে জানেন এমন দুজন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

    হোয়াইট হাউস অবশ্য রিপাবলিকানদের পরাজয়সংক্রান্ত জনমত জরিপ ও বিশ্লেষকদের ধারণাকে প্রচারমাধ্যমের ভিত্তিহীন বয়ান হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও মার্কিন নাগরিকদের অর্থনৈতিক স্বস্তি বাড়াতে প্রশাসনের বর্তমান পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

    আইনসভার অনুমোদন এড়িয়ে ট্রাম্প যেসব পদক্ষেপে নজর দিচ্ছেন, তার মধ্যে রয়েছে বায়ুকল বা উইন্ড টারবাইন এবং অতি প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ আমদানিতে নতুন শুল্ক চাপানো। বিদেশি কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার শর্তাবলি অধিক কঠোর করা এবং আবাসন খাতের খরচ কমানোর বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। বাজেট পরিচালক রাসেল ভোট খতিয়ে দেখছেন, আগে থেকে অনুমোদিত সরকারি বরাদ্দ কীভাবে নতুন অগ্রাধিকার খাতে স্থানান্তর করা যায়। তা ছাড়া অনুদান বিতরণের প্রশাসনিক নিয়ম বদলে রাজনৈতিকভাবে মনোনীত কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

    প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ইতিমধ্যেই সীমান্ত ছাঁটাই, শুল্ক আরোপ এবং আন্তর্জাতিক সংকটের ক্ষেত্রে ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। তবে বড় পরিসরের কর কাটছাঁট এবং ব্যয় প্রস্তাব বাস্তবায়নে তাঁকে কংগ্রেসের কাছেই যেতে হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সংস্থা ‘ইনসাইড ইলেকশনস’-এর সম্পাদক নাথান গঞ্জালেসের মতে, গত দু বছর ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের তোয়াক্কা না করেই আদেশ জারির মাধ্যমে কাজ সেরেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় হলেও তিনি সম্ভবত এই পথেই হেঁটে চলবেন।

    বিরোধী নিয়ন্ত্রিত আইনসভার প্রস্তাব ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা ব্যবহারের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করবেন বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। নিউইয়র্ক পোস্টের এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে রসিকতার ছলে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘মনে হয় আমি শেষ পর্যন্ত মিস্টার ভেটো হয়ে যাব।’ তিনি জানান, হেরে গেলে শুরুর এক-দুই মাস ঢালাও ভেটো দিয়ে পরে হয়তো কোনো একটি সমঝোতার চেষ্টা করবেন। কোনো বিলে রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগে, যা অর্জন করা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এমনকি কংগ্রেস জরুরি অবস্থা বাতিলের প্রস্তাব আনলেও ট্রাম্প তাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

    তবে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের দখল নিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বহুমুখী তদন্তের চাপে পড়তে হবে। ইতিমধ্যেই ডেমোক্র্যাট দলীয় জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতারা আলোচনা শুরু করেছেন, ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের, ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীদের কিংবা নির্বাচনী তহবিল দাতাদের অন্যায্য সুবিধা দিয়েছেন কি না। শুনাহির আয়োজন, অফিসিয়াল নথি তলব এবং সমন জারির মতো আইনি ক্ষমতা থাকবে তাদের হাতে। এই তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি আক্রমণ সামাল দিতে হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের লিখিত বিবৃতিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যক্তিগত উপদেষ্টাদের সঙ্গে ট্রাম্পের পরামর্শ ও কথোপকথন যেন তদন্তের আওতামুক্ত থাকে, সে জন্য বিচার বিভাগের কাছে আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    কংগ্রেসে বিরোধী দল সংখ্যাগুরু হলে কেবল ট্রাম্পের পছন্দসই বিলই আটকে যাবে না, সিনেটে তাদের জয় এলে বিচারপতিসহ প্রশাসনের শীর্ষ পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীতদের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদের মনোনয়নও এই জটিলতায় পড়বে। টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের জননীতি বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক অ্যান্ড্রু বুশ মন্তব্য করেছেন, ডেমোক্র্যাটদের দখলে সিনেট চলে গেলে ট্রাম্পের যেকোনো প্রশাসনিক বা বিচারিক নিয়োগ প্রস্তাবে সায় দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের তীব্র অনীহা ও বাধা সৃষ্টি নিশ্চিত।

    আরও পড়ুন

    কংগ্রেস হারালে ‘মিস্টার ভেটো’ হবেন ট্রাম্প, জানালেন নিজেই
    ভারতে বাংলাদেশি পর্যটক কমেছে ৭৩ শতাংশ, কলকাতার ব্যবসায় পতন
    সৌদি রুটে ১৬৫ ফ্লাইট ব্যাহত: চরম ভোগান্তিতে ২৩ হাজার যাত্রী
    ফ্লোরিডায় আবাসিক এলাকায় ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত: নিহত ৯
    ইরানে সামরিক হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরাইল
    মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দিলেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হ্যালি
    প্রথম বর্ষপূর্তিতে সান ফুকুওক এয়ারওয়েজের অভাবনীয় সাফল্য
    নেতানিয়াহুকে পেছনে ফেলে সরকার গঠনের লড়াইয়ে এগিয়ে আইজেনকোট