
শীতের আগমনে বা হালকা ঠান্ডায় অনেকেরই দাঁতে তীব্র শিরশিরানি অনুভূত হয়। বিশেষ করে ঠান্ডা পানি পান, আইসক্রিম খাওয়া কিংবা সকালের হিমেল বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সময় এই অস্বস্তি প্রকট হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে গরম চা পান করলেও দাঁতে এক ধরনের সংবেদনশীলতা দেখা দেয়। এই সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডেন্টিন হাইপারসেনসিটিভিটি বলা হয়। হাড় মজবুত করতে যে তিন ধরনের পুষ্টি জরুরি।
দাঁতের গঠন ও এর ভেতরের স্তরের জটিলতার কারণে এমনটি ঘটে। দাঁতের বাইরের শক্ত স্তর হলো এনামেল, যার নিচে থাকে ডেন্টিন। এই ডেন্টিনের ভেতরে থাকে অসংখ্য ক্ষুদ্র নালি। সাধারণত মাড়ি দিয়ে দাঁতের গোড়া ঢাকা থাকে। তবে এনামেল ক্ষয়ে গেলে বা মাড়ি সরে গিয়ে ডেন্টিন উন্মুক্ত হয়ে পড়লে ঠান্ডা, গরম কিংবা মিষ্টি ও টক খাবারের সংস্পর্শে দাঁতের ভেতরের স্নায়ু উত্তেজিত হয়, যা থেকে ব্যথা বা শিরশিরানি অনুভূত হয়। ফলে অল্প সময়ের জন্য তীক্ষ্ণ ব্যথা বা শিরশিরানি অনুভূত হয়।
দাঁতের এই সংবেদনশীলতার পেছনে সাধারণ কিছু কারণ রয়েছে। এর মধ্যে শক্ত ব্রাশ দিয়ে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে মাজা, নিয়মিত অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয় গ্রহণ, মাড়ি সরে যাওয়া এবং দাঁতের উপরিভাগ ক্ষয়ে যাওয়া অন্যতম। এছাড়া দাঁতের ক্যারিজ বা গর্ত হওয়া, পুরোনো ফিলিংয়ে সমস্যা কিংবা দাঁতে সূক্ষ্ম ফাটল থাকলে একই ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
অনেকে মনে করেন, শীতের ঠান্ডা বাতাস ও পানীয়র কারণেই দাঁতে শিরশিরানি বাড়ছে। তবে এটি পুরোপুরি সঠিক নয়। দাঁতের সুরক্ষামূলক স্তর অক্ষত থাকলে তাপমাত্রার পরিবর্তনে সাধারণ অবস্থায় খুব একটা ব্যথা অনুভূত হয় না। তাই শুধু শীতকে দায়ী না করে নিজের দাঁতের স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
অনেকে মনে করেন শিরশিরানি মানেই দাঁতের স্নায়ুতে প্রদাহ, তবে বিষয়টি সবসময় এমন নয়। সাধারণ সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে তাপমাত্রার উদ্দীপনা সরিয়ে নিলে ব্যথা দ্রুত কমে যায়। কিন্তু যদি ব্যথা দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়, কোনো কারণ ছাড়াই শুরু হয়, রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় কিংবা কামড় দেওয়ার সময় তীব্র হয়ে ওঠে, তবে তা পাল্পে প্রদাহ, গভীর ক্যারিজ বা দাঁত ফাটলের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া সমাধানের অপেক্ষায় না থেকে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস দাঁতের ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়। যেমন ঘুমের সময় দাঁত চেপে রাখা বা ঘষার অভ্যাস, যা দাঁতের উপরিভাগ ক্ষয় করতে পারে। সকালে চোয়ালে ব্যথা, দাঁতের কিনারা ক্ষয়ে যাওয়া বা অস্বস্তি থাকলে দ্রুত দন্তচিকিৎসককে জানানো উচিত। অ্যাসিডিক পানীয় বা খাবার খাওয়ার পর সাথে সাথে ব্রাশ না করে অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন এবং কুলি করে মুখ পরিষ্কার রাখুন।
দাঁতের নিয়মিত যত্নে নরম ব্রাশ দিয়ে দিনে দুইবার ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করা আদর্শ। দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার রাখতে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে পারেন। তবে টুথপেস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে পটাশিয়াম নাইট্রেট বা স্ট্যানাস ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ সংবেদনশীল দাঁতের জন্য বিশেষ পেস্টগুলো বেছে নিতে পারেন, যা কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহারে উপকার দেয়। ৮০ পেরিয়েও যাঁদের স্মৃতিশক্তি অসাধারণ, তাঁদের সবার মধ্যে একটাই মিল।
মনে রাখবেন, দাঁত পরিষ্কারের ক্ষেত্রে লেবু, লবণ বা কয়লা ঘষার মতো ভুল অভ্যাস পরিহার করা উচিত, কারণ এতে এনামেলের ক্ষতি আরও বাড়ে। ব্যথার ভয়ে দাঁত ব্রাশ করা বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। যদি নির্দিষ্ট কোনো দাঁতে ব্যথা বারবার অনুভূত হয়, মাড়ি ফুলে যায় কিংবা জ্বরসহ মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। শ্বাস নিতে বা খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া গুরুতর লক্ষণের ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসানির্ভর করে সমস্যার কারণের ওপর। তবে সমস্যাটি বারবার দেখা দিলে কারণ শনাক্ত করাই দাঁত সুস্থ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়।
দাঁতের শিরশিরানি মানেই দাঁত নষ্ট হয়ে যাওয়া নয়, তবে সমস্যাটিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। সঠিক কারণ নির্ণয়ে দন্তচিকিৎসক প্রয়োজনভেদে এক্স-রে করার পরামর্শ দিতে পারেন। এরপর ফ্লোরাইড প্রয়োগ, ফিলিং বা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য চিকিৎসার মাধ্যমে দাঁত সুস্থ রাখা সম্ভব। কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি ও আমার রঙিন স্কুলব্যাগের দিনগুলো।
