
কক্সবাজারের উখিয়ার জামতলী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-১৫) ডি-৩ ব্লকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এক ভয়াবহ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের একটি দল ওই ব্লকের একটি ঘরে ঢুকে দুই ব্যক্তিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত যুবকের নাম মো. আয়াছ (২০) এবং গুরুতর আহত ব্যক্তির নাম সৈয়দ মোহাম্মদ (২৪)। এর আগে গত জুনে উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-৯) পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলহামকে অপহরণ করে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার পরও হত্যা করা হয়।
আরএসও ও আরসা দ্বন্দ্ব
ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, নিহত আয়াছ এবং আহত সৈয়দ মোহাম্মদ দুজনই সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, এই ঘটনার পেছনে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা সরাসরি জড়িত। রোহিঙ্গা নেতা কামাল আহমদের ভাষ্যমতে, আরসার একজন ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ওই রাতে ঘরে ঢুকে তাদের তুলে নিয়ে যায়। এরপর অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে তিন লাখ টাকা দাবি করেছিল বলে জানা গেছে। গতকাল রাতে তাঁরা দুজন একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন।
নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি অনুযায়ী, অপহরণের পর শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে ভুক্তভোগীদের আরসার এক কমান্ডারের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাত-পা বেঁধে তাঁদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে অতিরিক্ত মারধরে মো. আয়াছ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে সকাল আটটার দিকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-৮) সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আয়াছের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং গুরুতর আহত সৈয়দ মোহাম্মদকে উদ্ধার করে আশ্রয়শিবিরের এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আইনি প্রক্রিয়া ও পুলিশের ভূমিকা
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আহত সৈয়দ মোহাম্মদ বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। এ সময় মুক্তিপণের জন্য শিশুটির ভিডিও ধারণ করা হয়।
আশ্রয়শিবিরে ক্রমবর্ধমান অপরাধ
- গত ১০ অক্টোবর ১৫ নম্বর জামতলী আশ্রয়শিবির থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর মো. ওমাইর (৪) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবার ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ তুলেছিল, যার প্রেক্ষিতে আবদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনসার বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- গত জুন মাসে উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-৯) আলহাম (৫) নামে এক শিশুকে অপহরণের পর ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়, এরপরও তাকে হত্যা করা হয়।
- জানুয়ারি মাসে উখিয়ার ১৯ নম্বর ক্যাম্প থেকে আরাকান (৫) নামে এক শিশুকে অপহরণ করে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। মুক্তিপণের ভিডিও ধারণের পর টাকা দিয়ে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
