
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দরের বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে যথাযথ তল্লাশি ছাড়াই সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের অবাধ প্রবেশ, সড়কে অবৈধ পার্কিং এবং অনুমোদনহীন স্থাপনার কারণে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গত তিন বছরে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বর্তমান এই অগোছালো পরিস্থিতি নিরাপত্তাঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সরেজমিনে টার্মিনাল-২ এলাকায় দেখা যায়, সেখানে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকার সাইনবোর্ড থাকা সত্ত্বেও অনেকে অনায়াসেই নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকছেন। দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও টার্মিনালের বহির্গমন সড়ক দখল করে অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী সংগ্রহের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের সামনেই এসব নিয়মবহির্ভূত কাজ চললেও তা রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। অনেক চালক নির্ধারিত স্থানে গাড়ি না রেখে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন, যদিও অন্য চালকদের ভাষ্যমতে, মাত্র ৫০ টাকা দিলেই তিন ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত পার্কিংয়ে গাড়ি রাখা সম্ভব। কয়েকজন চালকের দাবি, নির্ধারিত পার্কিংয়ে সিএনজি রাখার সুযোগ না থাকায় তাঁরা সড়কে গাড়ি দাঁড় করান।
নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি আরও বাড়ে যখন পার্কিং এলাকার পাশে ভিক্ষুকদের অবাধ বিচরণ, ফুলের দোকান, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের বস্তাভর্তি পণ্য ও খাবারের বক্স তল্লাশি ছাড়া ভেতরে প্রবেশের চিত্র দেখা যায়। এছাড়া কাস্টম হাউসের অভ্যন্তরে টিনশেড হোটেল ও ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডারের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার আগুনের নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসের অবাধ চলাচল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে যে, নিরাপত্তা যাচাই ছাড়া এসব যানবাহন কীভাবে বিমানবন্দরের সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তৌহিদুল হক সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের অনিয়ম কেবল নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই কর্তৃপক্ষকে যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, কাস্টম হাউসের ভেতরে পণ্য প্রবেশের পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই এবং এটি এপিবিএনের দায়িত্বের আওতাভুক্ত। তবে বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল দাবি করেছেন, নিয়ন্ত্রিত এলাকা বা এয়ারসাইডে কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি নেই, আর ল্যান্ডসাইড এলাকার নিরাপত্তার দায় এপিবিএনের। এপিবিএনের অতিরিক্ত ডিআইজি নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাহিনীটি দায়িত্ব পালন করছে এবং অনিয়মের বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অবৈধ দোকান উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
