
ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, স্বর্ণবার এবং একটি দামী আইফোন জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সোমবার (১২ অক্টোবর) পরিচালিত এসব অভিযানে জব্দ করা পণ্যের শুল্ককরসহ আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ১৬৭ টাকা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের বি-শিফটের কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি জোরদার করেন। এ সময় কুয়ালালামপুর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-০৩১৬ ফ্লাইটে আসা যাত্রী ফাতেমা তুজ জোহরাকে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গ্রিন চ্যানেলে থামানো হয়। এরপর তাঁর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৯৯ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি আইফোন ১৮ প্রো-ম্যাক্স জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৬১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় তাঁকে তল্লাশির জন্য নেওয়া হয়।
একই দিনে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটের দুই যাত্রীকে তল্লাশি করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে যাত্রী তানবীর হাসান রিফাত স্বর্ণ বহনের কথা অস্বীকার করলেও কাস্টমস হলরুমে তাঁর জুতার ভেতর থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার এবং দেহ তল্লাশিতে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। একই ফ্লাইটে আসা অপর যাত্রী মো. হাবিবুর রহমানের ব্যাগেজ ও দেহ তল্লাশি করে আরও ১১৭ গ্রাম ওজনের স্বর্ণবার এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট এক যাত্রীর পাসপোর্টে ২০২৬ সালে ব্যাগেজ সুবিধায় স্বর্ণ আনার পূর্ব তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের অভিযানে মোট ৪৩৪ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে, যার মূল্য শুল্ককরসহ প্রায় ৭৮ লাখ ১২ হাজার টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শাহ আমানত বিমানবন্দরে গত এক সপ্তাহে চালানো পৃথক অভিযানে ৯০২ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ হয়েছে, যার মধ্যে ৭০২ গ্রাম স্বর্ণবার ও ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে স্বর্ণ ও উচ্চমূল্যের পণ্যের অবৈধ প্রবেশ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি, সন্দেহভাজন যাত্রী শনাক্তকরণ এবং কঠোর অভিযান চলমান থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
