
ফেনীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, মদ্যপ অবস্থায় কেউ মাতলামি বা নাচানাচি করলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ফেনীতে মদ্য সহজলভ্য। পূজার পরিবেশ নষ্ট করার দায়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে তাদের ধরে এনে চিকিৎসা বা আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ সুপার যে বক্তব্যটি দিয়েছেন, সেটির সঙ্গে আমরা একমত। ফেনীতে পূজার সময় এমন ঘটনা না ঘটলেও অন্য কোনো জেলায় হয়তো ঘটে থাকতে পারে, তার আলোকে পুলিশ সুপার এমন বক্তব্য দিয়েছেন। আমাদের যে মেডিক্যাল টিম থাকবে, সেখানে এনে ওয়াশ করিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও এমন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, পূজার মণ্ডপগুলোতে নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্যাপনে পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে। অপরাধীদের কঠোর হাতে দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, বিশেষ করে শহরকেন্দ্রিক মণ্ডপ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের নিরাপত্তা বলয় বেশি জোরদার করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত কিছুদিনে ফেনীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে এবং পূজাতেও শান্তিভঙ্গকারী যে কেউ হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রস্তুতি সভায় ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক জানান, পূজার নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার, র্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করবে। এছাড়া কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বা গুজব মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ খালেক, বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ফেনী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ভালো। ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ খালেক, বিজিবি ৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের।
ফেনী জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সমীর কর বলেন, জেলায় সাধারণত এমন বিশৃঙ্খলার নজির নেই। তবে পুলিশ সুপারের এই সতর্কবার্তাকে তারা স্বাগত জানান। তিনি মনে করেন, পূজার সময় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টাকারী কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তাই পরিষদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পুলিশকে পূর্ণ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে ফেনী জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সমীর কর বলেন, ‘আমি ইতিপূর্বে বিগত ৭ বছর জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম।
উল্লেখ্য যে, ফেনীর ছয়টি উপজেলায় এবার মোট ১৫৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬৫টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি, সোনাগাজীতে ২৩টি, দাগনভূঞায় ১৯টি, পরশুরামে ৭টি ও ছাগলনাইয়ায় ৫টি মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর মণ্ডপের সংখ্যা তিনটি বেড়েছে।
