
চট্টগ্রামের চান্দগাঁও সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ইংরেজি মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে অধ্যয়নরত প্রায় ২৮৪ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমের এই আকস্মিক পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের দাবিতে অভিভাবকেরা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কেউ নার্সারি থেকে, কেউ প্রাথমিকের বিভিন্ন শ্রেণিতে।
অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁরা প্রথম এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে পারেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ২০২৭ সাল থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে আর কোনো নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না। সেই সঙ্গে বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যমে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা এটি মানতে পারবে না, তাদের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির কথা বলা হয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের এই বড় ধরনের সিদ্ধান্তের আগে তাঁদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি। অন্যথায় তাদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে নার্সারি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টির ইংরেজি মাধ্যমের সুনাম ও মানসম্মত পরিবেশের ওপর আস্থা রেখেই অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করিয়েছিলেন।
অধিকাংশ শিক্ষার্থীর পরিকল্পনা ছিল এখান থেকেই মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার। কিন্তু হঠাৎ মাধ্যম পরিবর্তনের নির্দেশনায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অভিভাবকেরা জানান, নার্সারি কিংবা প্রাথমিক পর্যায় থেকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে আসা শিক্ষার্থীদের হঠাৎ বাংলা মাধ্যমে স্থানান্তর করলে পাঠ্যবিষয় বুঝতে এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। এছাড়া বর্তমান পর্যায়ে নতুন কোনো ভালো ইংরেজি মাধ্যমের প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়াও তাদের জন্য বেশ কঠিন। বছরের পর বছর একই মাধ্যমে পড়াশোনা করে মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল শিশুরা। এখন হঠাৎ বিদ্যালয় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাঁদের জন্য আর্থিক, মানসিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্মারকলিপিতে অভিভাবকেরা উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা। শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনে বেতন বৃদ্ধির বিষয়েও তাঁরা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ের বিদ্যমান অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়। বরং শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া বা শিক্ষার মান উন্নয়নের চেষ্টা না করে সরাসরি মাধ্যম সংকুচিত করার সিদ্ধান্তটি অনভিপ্রেত বলে মনে করছেন তাঁরা। এমন সময়ে পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি সন্তানদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের ক্ষতি রোধ করতে এবং চান্দগাঁও এলাকায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সিডিএ চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের আশা, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করবে এবং ২৮৪ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরণের অস্থিরতা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাই এখন অভিভাবকদের মূল লক্ষ্য।
