
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেন ক্রিকেটারদের মন চাঙ্গা করে তুলছে। তবে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজের চেয়ে সিরিয়াসনেসই বেশি প্রকট। এর উল্টো চিত্র দেখা গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে। প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে ক্যারিবীয়রা দারুণ আত্মবিশ্বাসী, তাদের শরীরী ভাষায় সিরিজ ২-০ করার স্পষ্ট ইঙ্গিত। চারদিকের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে যে কারো মন ফুরফুরে হয়ে উঠবে। সিরিজে ১-০তে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের মধ্যে এই আনন্দের ছোঁয়াটা একটু বেশিই দেখা গেছে। কখনো শিষ্যদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা, কখনো খুনসুটি। দুই হাত প্রসারিত করে তার দাঁড়ানোর ভঙ্গিটাও যেন আরেকটি জয়ের আগাম ঘোষণা। সিলেটেও জিতে সিরিজ ২-০ করার স্বপ্ন দেখছে তারা। ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে।
আগামী ৫ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে। মিরপুরে প্রথম টেস্টে আট উইকেটের বড় ব্যবধানে হারার পর সিরিজ বাঁচাতে এই ম্যাচে জয় ছাড়া বাংলাদেশের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। সিরিজের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রান সংগ্রহ করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৪৫ রানে গুটিয়ে যায়, যা ছিল চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের নজির। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এলে চারপাশ দেখার পর সবাই প্রথম যে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তা হলো ছবি তোলা। সিরিজ শুরুর আগে আলোচনায় ছিল বাংলাদেশের ফেভারিট তকমা। বাংলাদেশের সামনে অবশ্য সমীকরণ পরিষ্কার। ভালো শুরু পেয়েও উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার পুরোনো রোগ ছাড়তে হবে।
সিলেটে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে বড় ধরনের দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে। বিশেষ করে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা কাটিয়ে মিডল অর্ডারকে লম্বা জুটি গড়ার দিকে নজর দিতে হবে। প্রথম ইনিংসে অন্তত ৪০০ রানের কাছাকাছি পুঁজি গড়তে না পারলে বোলারদের জন্য ম্যাচ জেতানো কঠিন হবে। ফিল্ডিংয়েও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে টেস্ট ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। প্রত্যেকের চোখে-মুখে ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ। সিলেটে তাই বাংলাদেশের চাওয়া একটাইÑঢাকার দুঃখ ভুলে ক্রিকেটের সুখ খুঁজে পাওয়া।
ইনজুরি কাটিয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের ফেরা দলের জন্য স্বস্তির খবর। তবে কনকাশনের কারণে মুমিনুল হকের ছিটকে পড়া বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তার জায়গায় দলে আসা অমিত হাসান সিলেটের উইকেট নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। অমিত বলেন, এখন পর্যন্ত উইকেট দেখে ঘাসের আবরণ মনে হচ্ছে। তবে ম্যাচের আগের দিনগুলোয় পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। মুমিনুলের অনুপস্থিতিতে অমিত বলেন, সুযোগ পেলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলের প্রয়োজনে অবদান রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তিনি। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের ধাঁচ দেখে একটা শব্দই জুতসই মনে হলো সিরিয়াসনেস। সিলেটের সবুজ মাঠে মঙ্গলবার দুদলের অনুশীলনের ছবিটি ছিল দুরকম। নাঈম হাসান লোয়ার অর্ডারে হাফ সেঞ্চুরি না করলে পরিস্থিতি আরো বিব্রতকর হতে পারত।
মিরপুর টেস্টে স্পিননির্ভর উইকেট বানিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা নিজেরাই ব্যাহত করেছিল বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টে ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায় স্বাগতিকরা। পিচের কন্ডিশন বুঝে ভারসাম্যপূর্ণ বোলিং আক্রমণ সাজাতে হবে। পেসার ও স্পিনারদের সম্মিলিত প্রয়াসে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চ্যালেঞ্জ এখন দলের সামনে।
ঢাকার তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে নতুন লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম জয় পাওয়ায় মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। তবে ঘরের মাঠে সিরিজ হারের লজ্জা এড়াতে হলে মাঠের পারফরম্যান্সে উন্নতির কোনো বিকল্প নেই। ক্রিকেট সুখের খোঁজে সিলেটে নামা বাংলাদেশ দলকে ব্যাটে-বলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতেই হবে। কিন্তু মিরপুরের প্রথম টেস্টে সে হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
