শিরোনাম
সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ে আবারও অবরোধ শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থী প্রাণহানির পর ফুটওভারব্রিজের উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নতুন বাস্তবতার উপযোগী হওয়ার সংকল্প গোপন বৈঠকে গ্রেপ্তার পটিয়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চার দেশের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দিল ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আবারও জয়ী সোমালীয় বংশোদ্ভূত ইলহান ওমর ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণের আল্টিমেটাম এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মাহিন খান: কারও সঙ্গে যুদ্ধ নয়, নিজেদের ঐতিহ্য নিয়েই এগোতে হবে না ফেরার দেশে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের লায়ন কুতুব উদ্দিন ইলিনয় সিনেটে রিপাবলিকান আসন জিতে ইতিহাস গড়লেন নাবিলা সৈয়দ
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নতুন বাস্তবতার উপযোগী হওয়ার সংকল্প
  • প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নতুন বাস্তবতার উপযোগী হওয়ার সংকল্প

    কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখা, দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যত গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। ‘অটল ২৮’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ কর্মী সম্মেলনে সর্বস্তরের সহকর্মীরা যোগ দেন। পুরুষদের পরনে ছিল স্মারক টি-শার্ট এবং নারীরা ছিলেন শাড়িতে। দীর্ঘ পথচলায় নতুন ও পুরোনো কর্মীদের মেলবন্ধনে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দক্ষতা বৃদ্ধি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকল্প নিয়ে ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করলেন কর্মীরা। সকাল নয়টায় কর্মীরা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আসতে থাকেন। পুরুষদের গায়ে ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর টি-শার্ট আর নারী কর্মীরা পরেছিলেন শাড়ি। ‘অটল ২৮’ প্রতিপাদ্যের এ আয়োজনের আবহে সৃষ্টি হয়েছিল এক আলাদা ঐকতান। দীর্ঘ ২৮ বছরের পথচলায় অনেকে আর সঙ্গে নেই, আবার নতুন মুখ এসেছে অনেক। সে কারণে ২৮তম বর্ষপূর্তির দিন বলছে, ‘স্যরি’। প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মী সম্মেলনে কর্মী ছাড়াও বেশ কিছু লেখক, পাঠক, মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী আসেন আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে। তাঁদের মঞ্চে আহ্বান করলেন সঞ্চালক কথা শোনার জন্য। তিনি বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে হামলার ঘটনার পরও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অব্যাহত রেখেছে, এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবিকাশের বর্তমান পর্যায়ে এআই এসেছে। নতুন প্রজন্ম এসব প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে।

    সকাল ৯টা থেকে কর্মীরা সম্মেলনস্থলে সমবেত হতে শুরু করেন। পরে ১০টায় ৩০ বছরের কম বয়সী ৩০ জন কর্মীর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সাংস্কৃতিক কার্যক্রম প্রধান কবির বকুল এই পর্বটি পরিচালনা করেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত লতিফুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, সব ধরনের বাধা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সত্যানুসন্ধানে অবিচল থাকার যে প্রেরণা লতিফুর রহমান দিয়ে গেছেন, তা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। হামলা ও সহিংসতার শিকার হয়েও বস্তুনিষ্ঠতার পথ থেকে পিছপা না হওয়ার প্রত্যয় উঠে আসে তাঁর কথায়। ৩০ বছরের কম বয়সী ৩০ কর্মী জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুলের পরিচালনায়। মব সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ করেও সত্যানুসন্ধানের পথ থেকে বিচ্যুত করা যায়নি।

    অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রের পর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়া হবে। অতীতে কোনো অপশক্তির কাছে নতি স্বীকার না করা এবং আপসহীন অবস্থান ধরে রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর পর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ‘স্বপ্ন ও স্মৃতি দিয়ে গড়া আমাদের এ দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করে যাবে। এ নিয়েই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তথ্যচিত্র দেখার আমন্ত্রণ জানালেন তিনি। অতীতে কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করেনি, জঙ্গিদের খুশি করতে পারেনি, সবার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করতে পারেনি। তিনি বলেন, যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা শুধু পূরণই করেনি, তার চেয়েও বেশি করেছে। সেই আলোয় আমরা আমাদের চারপাশটা দেখতে পাই।

    আয়োজনে বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিও ছিল নজরকাড়া।

    ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ম তামিম প্রতিষ্ঠাকালীন অঙ্গীকার পূরণের প্রশংসা করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে নানা চাপ ও সরকারি-বিরোধী পক্ষের রোষানলে পড়া প্রমাণ করে যে গণমাধ্যমটি সঠিক পথেই রয়েছে। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ম তামিম বলেন, ১৯৯৫ সালে বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা শেষে দেশে ফেরার পর যখন তাঁর একটি সচিত্র সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল, তখন সেটি ছিল তাঁর জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা। কারণ, দেশের শ্রেষ্ঠ পত্রিকায় তাঁর সাক্ষাৎকার তাঁকে খুবই অভিভূত করেছিল।

    এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ দৌলা সামাজিক অবদান ও গণিত প্রতিযোগিতার উদ্যোগের প্রশংসা করে নতুন প্রযুক্তি ও এআই-এর যুগে ইতিবাচক পরিবর্তনের তাগিদ দেন।

    মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারপারসন ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সাবেক উপাচার্য রুবানা হক পাঠকের পছন্দের দিকে নজর রেখে সত্য ও ন্যায্যতার আলো ছড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আমন্ত্রণে স্বরচিত কবিতা ‘আড়িয়ালখাঁর জলস্রোত’ আবৃত্তি করে শোনান। অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সম্পাদক মতিউর রহমান। অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিম বলেন, ‘বহু দিন থেকেই সঙ্গে আছি।

    নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফের সঞ্চালনায় ‘২০৩০ সালের পাঠকের অভ্যাসের পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ কৌশল’ শীর্ষক একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে টিকে থাকতে অ্যাপ সংস্কারসহ ‘শর্টস’, ‘ক্লিপস’ ও ‘গেমস’ নামের তিনটি নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে অনলাইন বিভাগের প্রধান শওকত হোসেন বলেন, ছাপা পত্রিকার অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসে ‘ডিজিটাল ফার্স্ট’ মানসিকতা লালন করতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বিজনেসের প্রধান জাবেদ সুলতান জানান, ডিজিটালের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আবার রিসার্চ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান মোমেনুর রশিদ সিদ্দিকী মনে করিয়ে দেন, ডিজিটাল মাধ্যমের প্রসার বাড়লেও পাঠকের আস্থা ও প্রভাবের ক্ষেত্রে ছাপা পত্রিকার গুরুত্ব এখনো শীর্ষে।

    আলোচনা শেষে মতিউর রহমান ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে প্রতিষ্ঠানটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি বিভাগকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও দক্ষ ও বহুমুখী করতে কাজ চলছে। ছাপা পত্রিকার প্রসারের পাশাপাশি সাংবাদিকতার গুণগত মানোন্নয়ন এবং নিজস্ব আয়ে স্বাধীনভাবে চলার ওপর জোর দেন তিনি। সত্যের প্রতি অঙ্গীকার ও পাঠকের আস্থাই প্রধান শক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি। লক্ষ্য তারুণ্যের শক্তি ও উদ্যমের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হওয়া।

    অনুষ্ঠানের শেষভাগে কর্মীদের কুইজ ও লেখালেখি প্রতিযোগিতার বিজয়ীসহ সেরা কর্মীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এরপর বেঙ্গল সিম্ফনির পরিবেশনায় ‘বারো মাসে বারো ফুল’, ‘ঘুমাইলা ঘুমাইলা বন্ধু’, ‘তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি’, ‘আটটা বাজে’ ও ‘সাদা সাদা কালা কালা’সহ জনপ্রিয় সংগীতের আসর বসে। মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে উদযাপনের সমাপ্তি ঘটে। নতুন-পুরোনোতে মেলামেশা, প্রীতিসম্ভাষণ, কুশলবিনিময় আর ছবি তোলার মধ্য দিয়ে অন্তরঙ্গ কেটেছে সারা দিন।

    আরও পড়ুন

    ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণের আল্টিমেটাম এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের
    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হাদিসের সঙ্গে তুলনা: ডিটিসিএর পদ হারালেন মসিউর
    শাহজালাল বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫ বছর বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ
    ৩৫ উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা
    জাপানি শর্ত মেনে চালু হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল
    নিয়োগ প্রতারণা থেকে সাবধান করল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
    সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত কর্মীর মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি দেশে ফিরেছে
    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান