
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হতে যাওয়া ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা ও এর অগ্রগতি নিয়ে জাতীয় সংসদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই দ্বিতীয় বৈঠকে প্রকল্পের অর্থায়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং উড়োজাহাজগুলো দেশে আসার সময়সীমা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যেকোনো চুক্তিতে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কমিটি সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান উড়োজাহাজ কেনার আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, পুরো পরিকল্পনাটি কয়েকটি ধাপে বাস্তবায়িত হচ্ছে। উড়োজাহাজ কেনার ব্যয় মেটাতে সহজ শর্তের ঋণ বা সফট লোনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নতুন উড়োজাহাজগুলো পরিচালনার মাধ্যমে যে আয় আসবে, তা দিয়েই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব হবে। মন্ত্রী আরও জানান, সব মিলিয়ে ৩৫টি উড়োজাহাজ হাতে পেতে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
বৈঠকের তথ্যমতে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িং ও এয়ারবাসের সঙ্গে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে বোয়িংয়ের সঙ্গে দুই ধাপে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে; যার প্রথমটি ৩০ এপ্রিল ১৪টি এবং দ্বিতীয়টি ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের সময় ১১টি উড়োজাহাজ নিয়ে স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া গত ৭ অক্টোবর এয়ারবাসের সঙ্গে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে।
এভিয়েশন খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ, সিভিল এভিয়েশনের গত আট মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য পাঁচ সদস্যের সাব-কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনের ওপর জোর দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে বর্তমানে চলমান ট্রলি সংকটের বিষয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। বৈঠকে মন্ত্রী, কমিটির সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বিমানবন্দরে ট্রলির সংকট নিয়েও আলোচনা হয়।
