
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফলভাবে এসে পৌঁছেছে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে বিশেষ গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জ্বালানি বহনকারী গাড়িগুলো নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।
এই পুরো পরিবহন কার্যক্রমটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। জ্বালানি বহরের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। পুরো যাত্রাপথে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্গলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন, যাতে কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়াই জ্বালানি গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি প্রয়োজন মেটানো এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে এই পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের উভয় ইউনিটের সফল কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই ধারাবাহিক এই সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৩ অক্টোবর প্রথম চালানের ইউরেনিয়াম রূপপুর প্রকল্পে এসে পৌঁছায়। এরপর গত ২৭ অক্টোবর তৃতীয় চালানের ইউরেনিয়ামও সফলভাবে প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। চতুর্থ চালানের এই সফল খালাস বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও প্রস্তুতি পর্বের কার্যক্রমে আরও এক ধাপ অগ্রগতি নিশ্চিত করল।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বড় আকারের বিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি শুধু দেশের জ্বালানি খাতের বৈচিত্র্য আনবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করবে। বর্তমানে প্রকল্পের পরবর্তী কারিগরি ধাপগুলো সম্পন্ন করার দিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
