
চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের বিরুদ্ধে শিডিউল সংক্রান্ত জটিলতার জের ধরে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন। প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজক শাহরিন আক্তারের পক্ষ থেকে এই নোটিশ পাঠানো হয়, যেখানে বলা হয়েছে, নোটিশ প্রাপ্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিনেতা যেন শিডিউলের বিষয়ে সুরাহা করেন। অন্যথায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আইন ও ন্যায়বিচারের আওতায় প্রাপ্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর যদি শিডিউল চায়, সেটা তো অবশ্যই দিব।
প্রযোজক শাহরিন জানান, ‘ঠিকানা’ শিরোনামের একটি সিনেমার কাজ নিয়ে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন জুবায়ের ইবনে বকর। প্রযোজকের দাবি, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সিনেমাটি ঈদে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে এবং সেই সময়ে রাজ অন্য কোনো সিনেমায় কাজ করতে পারবেন না। কিন্তু তার অভিযোগ, রাজ একই সময়ে অন্য দুটি সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত এবং সেখানে শিডিউল দিলেও তাদের শিডিউল দিতে গড়িমসি করছেন। সিনেমাটি আগামী ঈদুল আজহায় মুক্তি দেব। চুক্তির ভিন্নতা নিয়ে অনেক কিছুই বলতে পারি।
শাহরিনের ভাষ্যমতে, ‘আমরা সিনেমার শুটিং শুরু করতে চেয়েছি অনেক আগে থেকেই। চুক্তিতে পরিষ্কার লেখা আছে ঈদে সিনেমাটি মুক্তি পাবে। অথচ এখন তিনি মার্চের শুরুতে শিডিউল দিতে চাইছেন। এত দেরিতে শিডিউল দিলে ঈদে মুক্তি দেওয়া অসম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, এই আইনি নোটিশের উদ্দেশ্য টাকা আদায় নয়, বরং কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় শিডিউল নিশ্চিত করা। সেগুলোতে শিডিউল দিয়েছে, অথচ আমাদের শিডিউল দিচ্ছে না।’।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিচালক জুবায়ের ইবনে বকর। তিনি জানান, রাজ শিডিউল দিচ্ছেন না এবং তাকে অনেকটা আটকে রেখেছেন। তবে পরিচালক এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং প্রযোজকের বক্তব্যের ওপরই জোর দিয়েছেন। তিনি বললেন, ‘প্রযোজকের বক্তব্যই নিন।
অন্যদিকে, শরিফুল রাজ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, কখনো টাকার কথা বলে আবার কখনো শিডিউলের কথা বলে তাকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা চলছে। রাজ বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে টাকা নিয়ে কাজ না করার মতো দুর্নাম কেউ দিতে পারবে না। আমি সব সময় সিনেমাই করতে চেয়েছি।’
চুক্তিপত্রের বিষয়ে রাজ বলেন, চুক্তির ৪.১১ ধারায় সিনেমা মুক্তি ও শিডিউলের কথা উল্লেখ আছে। তিনি জানান, চুক্তিতে ঈদ ছাড়াও অন্য সময়ে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু প্রযোজক এখন শিডিউল নিয়ে অযথা আইনি পথে হাঁটছেন। রাজের ভাষায়, অন্য কোনো সিনেমায় কাজ করা যাবে না—এমন কোনো কঠোর শর্ত চুক্তিতে ছিল না। তিনি মনে করেন, পেশাগত শিডিউল নিয়ে এভাবে আইনি নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি অহেতুক এবং হতাশাজনক। তিনিই এ বিষয়ে কথা বলার সঠিক মানুষ।’। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫, তাঁর নাটকের ভিউ সবচেয়ে বেশি। যাই হোক পেশাগত জায়গায় আমি এসব বিষয়ের চেয়ে কাজ নিয়েই বেশি ভাবতে চাই।
সবশেষে শরিফুল রাজ জানান, তিনি প্রযোজক ও পরিচালকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার প্রত্যাশা রাখেন। তবে যেহেতু বিষয়টি আইনি নোটিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে, তিনিও এখন আইনি পথেই এর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
