শিরোনাম
  • প্রচ্ছদ
  • বিনোদন
  • সাহসী অভিনয় থেকে উপস্থাপনা: সিমি গাড়োয়ালের বর্ণিল জীবন
  • সাহসী অভিনয় থেকে উপস্থাপনা: সিমি গাড়োয়ালের বর্ণিল জীবন

    পর্দায় সাহসী উপস্থিতি, জীবনের নানা বাঁক আর উপস্থাপনার অসাধারণ শৈলীতে নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন সিমি গাড়োয়াল। গত ১৭ অক্টোবর এই অভিনেত্রী ৭৯ বছরে পা দিয়েছেন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্মগ্রহণ করা সিমি দশকের পর দশক ধরে অভিনয় ও কর্মগুণে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রেখেছেন। ষাট ও সত্তরের দশকে ভারতীয় সিনেমায় যখন নারীদের পর্দায় উপস্থিতি নিয়ে কঠোর সামাজিক বিধিনিষেধ ছিল, তখন তিনি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করে দারুণ আলোচনার সৃষ্টি করেছিলেন। পর্দায় সাহসী উপস্থিতি, ব্যক্তিজীবনে একাধিক আলোচিত প্রেম, ভাঙা সংসার আর তারকাদের মনের কথা বের করে আনার অসাধারণ দক্ষতা—সব মিলিয়ে সিমি গাড়োয়ালের জীবন যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। আবার একসময় তাঁর সঞ্চালনায় টেলিভিশনের পর্দায় নিজেদের ব্যক্তিজীবনের কথা খুলে বলতেন বলিউডের বহু তারকা। অভিনয়শিল্পী থেকে টেলিভিশনের সঞ্চালক—সিমির এই দীর্ঘ যাত্রায় যেমন আছে সাফল্য, তেমনি আছে বিতর্ক, প্রেম আর বিচ্ছেদের গল্প। ১৭ বছর বয়সে প্রেম, জীবনে একাধিক সম্পর্ক সিমি গাড়োয়ালের ব্যক্তিজীবনও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। জীবনের অর্থ ও আত্মিক উপলব্ধির সন্ধানে থাকা এক তরুণের যাত্রায় প্রেম, কামনা ও জাগতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ছবিটিতে। বাঁধা চিত্রনাট্য, সময়নিষ্ঠা ও পেশাদার কর্মপরিবেশের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। কিন্তু পতৌদির জীবনে পরে শর্মিলা ঠাকুর আসেন। তাই তাঁর ব্যক্তিজীবনকে কেবল প্রেম ও বিচ্ছেদের হিসাব দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না।

    সিমির ক্যারিয়ারের অন্যতম বিতর্কিত ও আলোচিত অধ্যায় ছিল ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রাজ কাপুরের ‘মেরা নাম জোকার’। ছবিটিতে তিনি মেরি নামের এক শিক্ষিকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। কিশোর রাজুর চরিত্রে থাকা ঋষি কাপুরের প্রতি শিক্ষিকার আকর্ষণের গল্পটি ফুটে উঠেছিল সেই দৃশ্যে, যা তৎকালীন সময়ে প্রচুর সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে সিমি বরাবরই জানিয়েছেন, চরিত্রটি নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজ কাপুর তাঁকে বেশ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। নিজের পোশাকের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে কিছু সংলাপ তৈরিতেও তিনি অবদান রেখেছিলেন। ছবিটি পরবর্তীকালে কালজয়ী সিনেমার মর্যাদা পায়। শিক্ষিকার প্রতি কিশোরের আকর্ষণ এবং কৈশোরে পা রাখার মানসিক পরিবর্তন তুলে ধরতে একটি দৃশ্যে সিমিকে পোশাক বদলাতে দেখা যায়। দৃশ্যটি সে সময় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তবে বিতর্কে আটকে থাকেনি ছবিটিতে তাঁর অভিনয়। পরে ছবিটি বাণিজ্যিকভাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও সময়ের সঙ্গে কালজয়ী সিনেমার মর্যাদা পায়। মেরি চরিত্রটিও থেকে যায় দর্শকের স্মৃতিতে।

    এরপর ১৯৭২ সালে মুক্তি পায় হারমান হেসের উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত ‘সিদ্ধার্থ’। শশী কাপুরের বিপরীতে কমলা চরিত্রে অভিনয় করা সিমির এই ছবিটি নগ্নতা ও ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের কারণে সেন্সর বোর্ডের বাধার মুখে পড়েছিল। সিমি তাঁর ওয়েবসাইটে জানিয়েছেন, চরিত্রের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতেই তিনি সেই দৃশ্যগুলোতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অভিনেত্রীদের সাহসী দৃশ্যগুলো প্রায়ই তাঁদের অভিনয়ের শিল্পগুণকে ঢাকা দিয়ে দেয়, তবে সিমি এই দ্বিধা কাটিয়ে নিজের অভিনয়দক্ষতা প্রমাণে সক্ষম হয়েছিলেন। ফলে অভিনয়ের পাশাপাশি ছবিটি নিয়ে বিতর্কও সিমির পরিচিতির অংশ হয়ে ওঠে। তাঁর বক্তব্য, চরিত্রটির ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলো নিয়ে তিনি প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। তাঁর কাছে সেটি ছিল কমলার গল্পের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার বিষয়।

    সিমির অভিনয়জীবন ছিল বাণিজ্যিক ও শিল্পসম্মত চলচ্চিত্রের এক অদ্ভুত সমন্বয়।

    ১৯৬২ সালে ‘টারজান গোজ টু ইন্ডিয়া’ দিয়ে অভিনয় শুরু করে তিনি ‘দো বদন’, ‘সাথী’ এবং সত্যজিৎ রায়ের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’-র মতো ছবিতে কাজ করেছেন। ১৯৬২ সালে ‘টারজান গোজ টু ইন্ডিয়া’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তাঁর। তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা ৫০-এর বেশি। বাঙালি পরিচালকের এই ছবিতে কাজ তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।

    এছাড়া মৃণাল সেনের ‘পদাতিক’, যশ চোপড়ার ‘কাভি কাভি’ এবং সুভাষ ঘাইয়ের ‘কর্জ’-এ তাঁর কাজ আজও স্মরণীয়।

    ১৯৮০ সালে ‘কর্জ’ ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে কামিনী হিসেবে তাঁর অভিনয় দর্শক হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সিমি তাঁর ক্যারিয়ারে ৫০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন এবং রাজ কাপুর, সত্যজিৎ রায় ও মৃণাল সেনের মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্যকে তিনি বিশেষ অর্জন বলে মনে করেন।

    ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সিমি দীর্ঘ সময় সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। কৈশোরে জামনগরের মহারাজা শত্রুশল্যসিংহজির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা শোনা যায়। এরপর মনসুর আলী খান পতৌদি এবং পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ সালমান তাসিরের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। রতন টাটার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। ১৯৭০ সালে তিনি ব্যবসায়ী রবি মোহনকে বিয়ে করলেও ১৯৭৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন সত্ত্বেও সিমি তাঁর ক্যারিয়ারের সাফল্য ধরে রেখেছেন এবং বর্তমানে তিনি প্রায় ১৬৫ কোটি টাকার মালিক। লন্ডনে বসবাসের সময় তাঁদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সম্পর্কটি অবশ্য বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি। সিমির জীবনের এই অধ্যায় নিয়ে কৌতূহল থাকলেও সম্পর্কের প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না।

    অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে সিমি টেলিভিশনে নতুন এক ধারার জন্ম দিয়েছিলেন। তাঁর সঞ্চালনায় ‘রঁদেভু উইথ সিমি গাড়োয়াল’ অনুষ্ঠানটি ভারতীয় টেলিভিশনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিল। সাদা পোশাক, শান্ত বাচনভঙ্গি এবং ব্যক্তিগত প্রশ্ন করার কারণে তাঁকে ‘লেডি ইন হোয়াইট’ বলা হতো। ২০০৪ সালে রেখার সাক্ষাৎকারে তিনি অমিতাভ বচ্চনের প্রতি রেখার অনুভূতির বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন, যা আজও দর্শক মহলে চর্চিত হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন নির্মাতা ও প্রযোজক হিসেবে রাজ কাপুর ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন।

    আরও পড়ুন

    নেটফ্লিক্সে দাপট দেখানো তুর্কি সিরিজের রহস্য কী?
    মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধ চালক
    ভয়ংকর সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন অনুপমা পরমেশ্বরন
    মেয়ের ছবি প্রকাশ করে অপূর্বর আবেগঘন বার্তা
    ১২ ছবিতে পরিচিত হোন নবাগত আজিজুন মিমের সঙ্গে
    বানোয়াট ভিডিও কনটেন্ট নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী মেহজাবীন
    চলে গেলেন বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের অভিনেত্রী
    জন্মদিনে পুরোনো বন্ধুর এসএমএসে আপ্লুত অপু বিশ্বাস