
ঢাকা শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আরও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৯ অক্টোবর সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।
নিজ সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই চাই আমাদের সন্তানেরা একটি সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। কেউ নিশ্চয়ই এমনটা চান না যে তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। তিনি বলেন, আপনার সন্তান তো শুধু নিজের ঘরের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সে বাইরেও বের হবে। তাই সবার আগে নিজের সন্তানের কথা ভেবে হলেও শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে।
রাজধানীর আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতাকে অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, এই সমস্যার সমাধান বা ব্যবস্থাপনার সাথে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। লন্ডনের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, ষাট বা সত্তরের দশকেও লন্ডন শহরের অনেক এলাকা ময়লা-আবর্জনায় ভরা ছিল, যা সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি বলেন, আপনারা অনেকেই বিদেশের বিভিন্ন শহর ঘুরে দেখেন, সেখানকার পরিচ্ছন্নতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ঢাকাকেও সেভাবে সাজাতে হবে। এই সমস্যা এক দিনে বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। কর্মকর্তাদেরও একইভাবে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি যখন যেখানে যাই, দেখতে থাকি কোথায় কী সমস্যা আছে।
তিনি আরও জানান, নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। তার পর্যবেক্ষণে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যেমন কোথাও নতুন করে সড়ক বিভাজক নির্মাণ করা হচ্ছে, আবার কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে তার সাম্প্রতিক আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন, যিনি বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা করছেন এবং ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আমি যখনই কোনো জায়গায় যাই, তখন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করি। আমি চাই আপনারা আমার সমালোচনা করার সুযোগ থাকলেও কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখুন। এর আগে তিনি নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করি। আপনারাও যদি এভাবে সমস্যাগুলো দেখেন এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান।
