
ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের আজ ১১ অক্টোবর জন্মদিন। ক্যারিয়ারের দুই দশক পেরিয়ে এসে এবার ৩৭ বছরে পা দিলেন তিনি। জন্মদিনের প্রথম প্রহরে নিজের একমাত্র ছেলে জয়ের সঙ্গে কেক কেটে দিনটি উদযাপন করেছেন এই তারকা। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন নিজের জীবনদর্শন, অতীত অভিজ্ঞতা এবং জন্মদিনের অনুভূতি নিয়ে। ৩৭–এ পা দিয়ে পেছনের কোনো অধ্যায় নতুন করে লিখতে ইচ্ছা করে।
অতীতের হিসাব-নিকাশ নিয়ে অপু বিশ্বাস জানান, তিনি জীবনকে কোনো নির্দিষ্ট ছকে বাঁধতে বিশ্বাসী নন। তার মতে, জীবনে যা কিছু ঘটেছে, প্রতিটি অধ্যায়ই সুন্দর এবং শেখার মতো। তিনি অতীতের কোনো কিছু নিয়ে আক্ষেপ না করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এগিয়ে যেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনি মনে করেন, জীবন তার নিজস্ব গতিতেই চলে এবং সব পরিস্থিতিই হয়তো তার জন্য আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। জীবনে কিছু অধ্যায় থাকে, যেগুলো মানুষকে বদলে দেয়, আবার কিছু স্বপ্ন থাকে, যেগুলো অপূর্ণ থেকে যায়। তাই পেছনে যা হয়েছে, বর্তমানে যা হচ্ছে কিংবা সামনে যা ঘটবে—সবকিছুই হয়তো আমার জন্যই প্রস্তুত করা ছিল। অপু বিশ্বাস: জীবনে আমি সব সময় সেলফ রেসপেক্টটা একটু ফোকাস করে এসেছি।
নিজের সাফল্যের মূলমন্ত্র ও আত্মসম্মান প্রসঙ্গে অপু বিশ্বাস বলেন, তিনি সবসময় নিজের সম্মান বজায় রাখার বিষয়টিকে শতভাগ গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যক্তিজীবনের নানা টানাপোড়েন ও সন্তান জন্মের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো তাকে মানসিকভাবে আরও পরিণত ও শক্ত হতে শিখিয়েছে। তিনি বলেন, আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং একা চলার যে শিক্ষা তিনি পেয়েছেন, তা তাকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি মনে করেন, জীবনের বাধাগুলো আসলে সফল হওয়ার বড় নিয়ামক। এ জন্য আমার কাছে অলওয়েজ নিজের সম্মানটাকে বজায় রাখার চিন্তা প্রায়োরিটিতে থাকে, একদম হানড্রেড পার্সেন্ট।
সফলতার সংজ্ঞা সম্পর্কে এই চিত্রনায়িকা জানান, কর্ম এবং যোগ্যতাই একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয়। গ্রামগঞ্জসহ সাধারণ মানুষের মনে নিজের কাজের ছাপ রাখতে পারাটাই তার বড় প্রাপ্তি। যখন দর্শকরা তাকে গত প্রজন্মের অন্যতম স্মরণীয় নায়িকা হিসেবে স্বীকৃতি দেন, তখন তিনি তার কাজের সার্থকতা খুঁজে পান। নিজের কাজের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব বজায় রাখা তার অন্যতম লক্ষ্য। জীবনে একটা সময় আসে, যখন অন্যের কাছে নিজেকে প্রমাণের চেয়ে নিজের কাছে ভালো থাকাটা বেশি জরুরি হয়ে ওঠে।
জন্মদিনের বিশেষ মুহূর্ত ও অপ্রত্যাশিত সারপ্রাইজ নিয়ে অপু বিশ্বাস আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, ২০০৯ সালে পরিচয় হওয়া এক বিশেষ মানুষ ঠিক রাত ১২টায় তাকে একটি এসএমএস পাঠিয়েছেন। এই ছোট বার্তাটি তার কাছে অত্যন্ত স্পেশাল এবং তা জন্মদিনকে আরও রঙিন করে তুলেছে। এছাড়া রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়জনদের ফোনকলগুলোও তাকে মনে করিয়ে দেয় দিনটি কতটা বিশেষ।
সবশেষে অপু বিশ্বাস বলেন, আগে জন্মদিনে ছেলে কোলে থাকত, আর এখন সে পাশে বসে থাকে—এই পরিবর্তনটুকুই তার কাছে সবচেয়ে বেশি স্মৃতিময় ও আনন্দদায়ক। জীবন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি আগামীর পথ চলতে চান।
