
সোমবার ঢাকা কলেজের শহীদ এ. এন. এম. নজীব উদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত শাখা ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিগবা অভিযোগ করেন যে, সরকার সবসময় শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এদেশের তরুণরা পড়াশোনায় আগ্রহী হলেও সরকার তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তার মতে, তরুণরা পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে উঠলে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাবার ঘুঁটি হিসেবে তাদের ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে, আর সে কারণেই এই দমন-পীড়নের নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে। তবে আমরা আশাবাদী, যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারা বিষয়গুলো দেখবেন।
শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে সিবগাতুল্লাহ সিগবা জানান, ছাত্রশিবির তার নিজস্ব আদর্শ ও স্বকীয়তা বজায় রেখে চলবে। ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা বা ইচ্ছা তাদের নেই। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সুযোগ প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যাদের সহায়তা বেশি প্রয়োজন, রাষ্ট্র তাদেরই সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে—এটিই শিবিরের মূল লক্ষ্য।
ছাত্রসংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সিবগাতুল্লাহ উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সবকটিতেই ইসলামী ছাত্রশিবির জয়লাভ করেছে। নির্বাচিত হওয়ার পর কোথাও কোনো ধরনের অছাত্রসুলভ গেস্টরুম বা গণরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। হলের সিট বণ্টনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিট বরাদ্দে স্বচ্ছ নীতিমালা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শিক্ষার্থীরা হলের সিটের জন্য কেন রাজনৈতিক নেতার পেছনে দৌড়াবে—এই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অযোগ্যদের তোষামোদি করার পরিবেশ থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে আসা দরকার। ছাত্রসংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সিবগাতুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পাসে ছাত্রসংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কারণ যদি সবাই পড়াশোনায় মন দেয়, তবে গাড়ির পেছনে দৌড়াবে কে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও আমরা বলেছি, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমেই সিট বরাদ্দ দিতে হবে। একজন শিক্ষার্থীকে গাড়ির পেছনে ঘুরিয়ে যোগ্য বানিয়ে তোলার কোনো প্রয়োজন নেই।
১৮৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, লাইব্রেরি ও রিডিং রুমের অভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় বাধা। সরকারের এসব বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে পড়াশোনা করতে পারলে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ কেন দেওয়া হবে না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানির সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমান এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
