
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলার ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। নিহতরা হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাসিন্দা মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি এবং বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মো. সাহেদ আহমেদ। এর মধ্যে নাসরুল্লাহ ওমরাযাত্রী ছিলেন এবং সাহেদ আহমেদ সেখানে কর্মরত ছিলেন। নাসরুল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায়।
বিমানবন্দরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আরও চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, আহতরা বর্তমানে রিয়াদের কিং খালিদ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা নিয়মিতভাবে তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং তাঁদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
সৌদি আরবে অবস্থানরত অন্যান্য বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মিশনে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আহতদের পরিচয় এবং তাদের চিকিৎসার সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহে দূতাবাস কাজ করছে। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করে থাকে। যেহেতু ঘটনাটি সাম্প্রতিক, তাই সৌদি সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশিরা যাতে যথাসম্ভব নিরাপদে থাকতে পারেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ মিশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কাজের সন্ধানে বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় কোম্পানির মালিকপক্ষের সাথে সমন্বয় করতে হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার সমুদয় ব্যয় বহন করা হয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও সরকারি নিয়ম মেনে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এদিকে, নিহত ও আহতদের পরিবারের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে এবং তাদের মানসিক ও প্রশাসনিক সহায়তায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে। রিয়াদ দূতাবাস সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখছে।
