
সৌদি আরবের রিয়াদে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। এ অবস্থায় কুয়েত এয়ারওয়েজ তাদের রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে কুয়েতমুখী দুটি ফ্লাইট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত শনিবার, ১০ অক্টোবর এই ঘোষণার ফলে দুই দেশের মধ্যকার আকাশপথে যাত্রী চলাচলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এয়ারলাইনটির তথ্য অনুযায়ী, বাতিলকৃত ফ্লাইট দুটি হলো কুয়েত থেকে রিয়াদগামী কেইউ৭৭৫ এবং রিয়াদ থেকে কুয়েতগামী কেইউ৭৭৬। শনিবারের জন্য নির্ধারিত এসব ফ্লাইটের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুয়েত এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, যাত্রী ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আকাশপথে ভ্রমণকারী যাত্রীদের বুকিংয়ের সময় নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরে খুদে বার্তা (এসএমএস) ও প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফ্লাইটের সময়সূচি এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে এয়ারলাইনসটি নিয়মিত অবহিত করবে। এর বাইরে যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানতে কুয়েত এয়ারওয়েজের নিজস্ব আনুষ্ঠানিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এসব হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিমান চলাচলে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। চলমান এই উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইনস যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট সূচিতে রদবদল করছে, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক রুটগুলোতেও।
কুয়েত এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ফ্লাইট চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ওপরই পরবর্তী কার্যক্রম নির্ভর করছে। জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণকারী যাত্রীদের তাই ফ্লাইটের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আকাশপথে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখা বর্তমানে এয়ারলাইনগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
