
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওলেশকি শহরে একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সফল হয়েছেন বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শহরটি রাশিয়ার দখলে রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ঘোষণা আসার পর ইউক্রেনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, শীঘ্রই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। একই সাথে ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার সময় নির্ধারণ নিয়ে সামরিক বাহিনী কাজ করছে। শহরটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার দখলে রয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে শুক্রবার এই ঘোষণার পর ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, শিগগিরই ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর প্রথম দিনেই শহরটি দখল করে নেয়। ওলেশকি একটি সম্মুখযুদ্ধের শহর, যা ধ্বংসের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেলানিয়া ট্রাম্প ওলেশকির বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহরটির সাধারণ মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও মৌলিক সরঞ্জামের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়া মাইন পুঁতে রাখা সড়কের ঝুঁকি এবং নিয়মিত সামরিক হামলার মুখে শহরটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। মেলানিয়া দৃঢ়ভাবে বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই শহরে মানবিক ত্রাণ পৌঁছানো এবং প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।
ফার্স্ট লেডি জানিয়েছেন, তাঁর প্রতিনিধিদল সরাসরি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করেছে, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। দুই দেশের বেসামরিক নেতারা এখন যৌথভাবে কাজ করবেন যেন সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নতুন কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে একদিকে যেমন ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, তেমনি রাশিয়াকে কিছু ছাড়ও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযানের প্রথম দিনেই দখল হয়েছিল। যুদ্ধের আগে শহরটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ হাজার। দীর্ঘ সময় ধরে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে শহরটি বর্তমানে চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে।
