
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউ জার্সির নেওয়ার্কের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বিমান ছিনতাইয়ের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার রাতে ১৬৮১ নম্বর এই ফ্লাইটে ১৫০ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। বোয়িং ৭৩৭ মডেলের বিমানটি আকাশে থাকা অবস্থায় এক যাত্রী তার মুঠোফোনে বিমান ছিনতাই এবং নির্দিষ্ট আসনের সারিতে আঘাত করার হুমকির বার্তা লিখলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ছিনতাইয়ের হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠানোর অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে বার্তাটি কীভাবে পাঠানো হয়েছিল কিংবা কাকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছিল, সে বিষয়ে অভিযোগপত্রে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে।
এক বিমানবালা ওই যাত্রীর মুঠোফোনের বার্তার বিষয়টি লক্ষ্য করার পর বিষয়টি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে পাইলটকে জানান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পাইলট দ্রুত ককপিটের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেন এবং বিমানটিকে লাস ভেগাস বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পাইলট ও নিয়ন্ত্রণকক্ষের কথোপকথনে জানা যায়, ওই যাত্রী জানতেন না যে তার বার্তা ক্রুরা দেখে ফেলেছেন, তাই তাকে মাঝ আকাশেই বেঁধে রাখার প্রয়োজন হয়নি। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটের দিকে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং পুলিশ সন্দেহভাজন দান্তে মিলনেকে আটক করে। সেখানে অপেক্ষায় থাকা লাস ভেগাস মহানগর পুলিশের সদস্যরা কোনো বাধা ছাড়াই মিলনেকে আটক করেন।
এ ঘটনায় যাত্রীদের কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে বিমানটি লাস ভেগাসে ফিরে আসায় পাইলট ও ক্রুদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা শেষ হয়ে যায়। ফলে ১৪৯ জন যাত্রীকে লাস ভেগাসে রাত কাটাতে হয়েছে। ঘটনার পর পুরো বিমানে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযুক্ত মিলনেকে ১০ হাজার ডলারের মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং আগামী মঙ্গলবার আদালতে তাকে হাজির হতে হবে। নেভাডার আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসী হুমকির মতো গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হলে তার এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর এক বিমানবালা অভিযুক্ত যাত্রীকে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা লিখতে দেখেন। পরে সব যাত্রীকে বিমান থেকে নামানো হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো বিমানটিতে তল্লাশি চালায়। পরদিন সকালে তাদের নেওয়ার্কে যাওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আদালতে তার হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। নেভাডার আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হুমকি বা এ-সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে বাণিজ্যিক বিমানে যাত্রীদের অসদাচরণের এক হাজার ৪০০টির বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আকাশপথের নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের রেকর্ডিংয়েও ঘটনার বিবরণ পাওয়া গেছে।
