
টোকিওতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকের পর আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের কথা জানান দুই দেশের সরকারপ্রধান।
জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর ১১টা ৪৫ মিনিটে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের কৌশলগত সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান আমাদের অন্যতম প্রথম স্বীকৃতিদানকারী রাষ্ট্র। বিগত পাঁচ দশকে জাপান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ এবং অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি জাপানি ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।
তারেক রহমান আরও বলেন, সরকার জাপানের সাথে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অংশীদারিত্ব উভয় দেশের জনগণের জন্য একটি স্থিতিস্থাপক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফলস্বরূপ তৈরি যৌথ বিবৃতিতে অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার হিসেবে কাজ করবে। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর সুদৃঢ় হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেন যে, এই নতুন কৌশলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হবে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
