
মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি: মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এবং কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল ডিবেট ক্লাবের আয়োজনে তিন পর্বে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপজেলা বিতর্ক উৎসব-২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল প্রাঙ্গণে ফাইনাল বিতর্ক, পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
‘রক্তে রাঙা জুলাই মাস, বৈষম্যের হোক বিনাশ!’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ উৎসবে যুক্তিনির্ভর চিন্তাধারা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব এবং শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উৎসবটি তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ধাপে গত ১৮ জুলাই icddr,b অডিটোরিয়ামে প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রতিনিধির অংশগ্রহণে একটি বিতর্ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় জাতীয় পর্যায়ের বিতার্কিকরা যুক্তি নির্মাণ, বক্তব্য উপস্থাপন, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং সংসদীয় বিতর্কের বিভিন্ন কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।
দ্বিতীয় ধাপে ২৪ জুলাই দিনব্যাপী ট্যাব রাউন্ড ও নকআউট পর্বের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৬টি স্কুল দল, ৮টি কলেজ (বাংলা) দল এবং ৪টি ইংরেজি বিতর্ক দল অংশ নেয়। তিনটি বিভাগে মোট ২৮টি দল ও ৮৪ জন বিতার্কিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন জাতীয় বিতার্কিক এবং পুরো আয়োজন সফল করতে কাজ করেন ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক।
ফাইনালে স্কুল বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ‘ভয়েজ অব ডেমোক্রেসি’ দল এবং রানার্সআপ হয় মতলবগঞ্জ জে.বি. পাইলট স্কুলের ‘জে.বি. ডিবেটার্স’। এ বিভাগে ‘ডিবেটার অব দ্য ফাইনাল’ নির্বাচিত হন মোহিনী মাহি এবং ‘ডিবেটার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হন সুফিয়া মুকুল রোজা।
কলেজ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে মতলব সরকারি কলেজের ‘আলোকরশ্মি-১’ দল। রানার্সআপ হয় কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল (কলেজ শাখা)-এর ‘মাদার অব ড্রাগনস’। এ বিভাগে ‘ডিবেটার অব দ্য ফাইনাল’ নির্বাচিত হন আয়েশা আক্তার মহিমা এবং ‘ডিবেটার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হন সুমাইয়া আক্তার।
ইংরেজি বিতর্ক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয় কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের ‘জুলাই ফর জাস্টিস’ এবং রানার্সআপ হয় একই প্রতিষ্ঠানের ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’। এ বিভাগে যৌথভাবে ‘ডিবেটার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হন তাহমিদ ও রেদোয়ান। ‘ডিবেটার অব দ্য ফাইনাল’ হন বিসমি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে. এম. ইশমাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মতলব পৌরসভার সাবেক মেয়র এনামুল হক বাদল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বালিকা শাখার কো-অর্ডিনেটর বদিউল আলম বাবু এবং কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল ডিবেট ক্লাবের মডারেটর মেহেদী হাসান।
বক্তারা বলেন, বিতর্কচর্চা শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং জাতীয় জীবনে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব তুলে ধরেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে. এম. ইশমাম বলেন, “মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিবছর এ বিতর্ক উৎসব আয়োজন করা হবে। ভবিষ্যতেও বাংলা বিতর্কের পাশাপাশি ইংরেজি বিতর্কও এ উৎসবের নিয়মিত অংশ থাকবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে উপজেলা প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে।”
বিশেষ অতিথি এনামুল হক বাদল তাঁর বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় উল্লেখ করে বলেন, এই আন্দোলন তরুণ প্রজন্মকে ন্যায়, সমতা ও গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল ডিবেট ক্লাবের মডারেটর মেহেদী হাসান বলেন, “এ আয়োজন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর, দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি সম্মিলিত প্রয়াস। ভবিষ্যতে এ উৎসবকে আরও বৃহত্তর পরিসরে আয়োজনের মাধ্যমে মতলব দক্ষিণকে বিতর্কচর্চার একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন কামাল এক বিশেষ বার্তায় বিজয়ী ও রানার্সআপ দলসহ অংশগ্রহণকারী সব দলকে অভিনন্দন জানান।
দুই দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা ও তিন পর্বের পুরো আয়োজন শেষে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকদের আশা, এ ধরনের আয়োজন মতলব দক্ষিণে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, যুক্তিনির্ভর চিন্তা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
