
শিমুল হোসেন,কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা ব্যুরো
বিশ্ব জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ন্যায়বিচারভিত্তিক পদক্ষেপের দাবিতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পালিত হলো ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক–২০২৫’ বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকালে কালিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জনকল্যাণ সংস্থার আয়োজনে এবং একশনএইড বাংলাদেশ ও গ্লোবাল প্লাটফর্ম বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশ্বজুড়ে যখন ব্রাজিলের বেলেম শহরে জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলন কপ–৩০ চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে কালিগঞ্জে তরুণ জলবায়ু কর্মীদের এই সমাবেশ বৈশ্বিক আন্দোলনের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করে।সমাবেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যুব সংগঠন ও পরিবেশবাদী তরুণরা অংশ নেন।
রঙিন ফেস্টুন,ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি এবং জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধের বার্তা তুলে ধরা হয়। তরুণদের দৃপ্ত ঘোষণা: “সবুজ অর্থনীতি হতে হবে তরুণবান্ধব” সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তরুণ জলবায়ু কর্মী মো. মারুফ হাসান বলেন,“ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশবান্ধব কাজের সৃষ্টি, মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং তরুণের নেতৃত্বাধীন সমাধানগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সবুজ অর্থনীতি অবশ্যই তরুণবান্ধব হতে হবে, যেখানে জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য থাকবে। টেকসই ভবিষ্যতের পথে কাউকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে একশন এইডের সংহতি এ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে একশনএইড বাংলাদেশ-এর ইয়ুথ অ্যান্ড জাস্ট সোসাইটি টিমের লিড মো. নাজমুল আহসান বলেন,“ কপ৩০-এর আগে যারা জলবায়ু ন্যায়বিচারের জন্য সোচ্চার হচ্ছে, আমরা তাদের সঙ্গে আছি।
তরুণদের ন্যায্য রূপান্তরের দাবি যৌক্তিক,যা তাদের জীবন- জীবিকা, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু ঝুঁকির বিরুদ্ধে সুরক্ষার অধিকারকে সম্মান করে। প্রান্তিক পর্যায়ে যুব–নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে নিঃশর্ত আর্থিক সহায়তার দাবিতে আমরা তাদের কণ্ঠকে সমর্থন করি। নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবি সমাবেশে বক্তারা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তিতে অর্থায়ন বৃদ্ধির দাবি জানান। তারা বলেন—“সবুজ, সমতাপূর্ণ, ন্যায্য ও টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে এখনই সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ করে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনেতাদের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”জলবায়ু আন্দোলনে তরুণদের এমন সক্রিয় ভূমিকা স্থানীয় পর্যায়ে নতুন আশা ও দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে—এমনটাই মনে করছেন আয়োজকেরা।
