শিরোনাম
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • দেশজুড়ে চাঁদাবাজির দাপট: জিম্মি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী
  • দেশজুড়ে চাঁদাবাজির দাপট: জিম্মি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী

    অস্বস্তিকর এক বাস্তবতার নাম এখন ‘ভাই’ সংস্কৃতি। কারও পেশা জিজ্ঞাসা করলে সরাসরি উত্তর আসে, অমুক ভাইয়ের সঙ্গে আছি। এই ‘ভাই’ পরিচিতি মানেই স্থানীয় মাস্তান বা নেতা, যার দাপটে সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী সবাই তটস্থ। এই চাঁদাবাজরা প্রকাশ্যেই ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। এমনকি পুলিশও অনেক ক্ষেত্রে তাদের ধরতে অনাগ্রহ দেখায় বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানায় যে, অভিযুক্তকে পাওয়া যাচ্ছে না। শিল্পপতিরা বাধ্য হয়ে তাদের মাসিক সম্মানী পাঠান। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই চাঁদাবাজির এই মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা ভয়ে এলাকা ছাড়া, কারখানা গড়ার সাহস পাচ্ছেন না অনেকে। এমনকি ব্যাংক ঋণ মঞ্জুর হওয়ার প্রক্রিয়াও এখন চাঁদাবাজদের নজরদারিতে থাকে। ম্যানেজারদের হুমকি দিয়ে তারা লোন অনুমোদনের আগেই খবর নেয়। ফুটপাথের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অলিগলির যান নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই এখন ভাইদের দখলে। আসলে ‘ভাই’ কী করেন এলাকার সবাই জানেন। বিখ্যাত চাঁদাবাজ হিসেবে তার নাম চারদিকে। উপরের তলায় খবর পাঠায়-স্যার, তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জে সব জায়গাতে একই চিত্র। ব্যাংক থেকে কবে, কখন, কাকে ঋণ দেয়া হচ্ছে এই নেটওয়ার্কও চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণে। রাজধানী ঢাকার অলিগলিতে চাঁদাবাজরা সক্রিয়। কারণ দিনের মধ্যে অন্তত তিনটি গ্রুপকে চাঁদা দিতে হচ্ছে।

    রাজনৈতিক মদত ছাড়া এই অপরাধ কর্মকাণ্ড চালানো সম্ভব হয় না। শাসক দল বদল হলেও চাঁদাবাজির ধরনে নতুন রূপ আসে, কিন্তু সাধারণ মানুষ জিম্মিই থেকে যায়। স্কুল-কলেজেও এদের দৌরাত্ম্য চলছে। কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে রয়েছে এদের সরাসরি মদত। সম্প্রতি দখলবাজির নানা অভিযোগ উঠেছে আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধেও। ঢাকায় একজনকে এ কারণে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শিল্পাঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও অস্থির। চাঁদাবাজরা শুধু মাসোহারা নয়, কখনো নিম্নমানের মালামাল সরবরাহের চাপও দেয়। প্রতিবাদ করলে নেমে আসে হামলা-নির্যাতন। টেন্ডার বা সরকারি কাজের ক্ষেত্রেও সমঝোতা করতে হয় এই ভাইদের সঙ্গেই।

    অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশাসনিক দুর্বলতাই চাঁদাবাজি বাড়ার প্রধান কারণ। পুলিশ কর্মকর্তা এক পর্যায়ে আক্ষেপ করে বলেন, আপনারা সবসময়ই আমাদের দোষারোপ করেন। বলেন, আমরা দেখেও নাকি দেখি না! কিন্তু কর্মকর্তাদের প্রমোশন ও পোস্টিং কেনাবেচার যে চক্র চলছে, তা কি অজানা? একজন কর্মকর্তা যখন বিপুল বিনিয়োগ করে এলাকায় পদায়ন পান, তখন তার প্রথম লক্ষ্য থাকে সেই বিনিয়োগ তুলে আনা। আর সেই লক্ষ্য পূরণে তিনি স্থানীয় চাঁদাবাজদের সঙ্গে হাত মেলান। সহযোগিতা না করলে বদলি হয়ে বান্দরবানে যাওয়ার ভয় থাকে, নতুবা ওএসডি হওয়ার ঝুঁকি তো আছেই। চাঁদাবাজি এক ধরনের মহামারিতে রূপ নিয়েছে।

    প্রশাসনিক প্রতিটি স্তরে এই নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট। এমনকি বিদেশগামী মানুষের ছাড়পত্র পেতেও নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয়, যা ভাইদের পকেটে যায়। কবরের জায়গা পেতেও এখন ভাই ধরতে হয়। আগে চাঁদাবাজির টাকা বিদেশে হুন্ডি বা ব্যাংকের মাধ্যমে যেত, এখন ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ছে। কোনো অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হয় না বলে ঝুঁকি কম এবং লেনদেন গোপন রাখা সহজ। এই কমিশন বাণিজ্য ও অপরাধ নেটওয়ার্কের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর মানুষের আস্থা ক্রমেই কমছে। দখলবাজি আর ভাগাভাগির এই চক্র দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আরও পড়ুন

    রিয়াদগামী পাঁচটি ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
    যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস: সন্দেহের তীর কর্মকর্তা–কর্মচারীদের দিকে
    ঢাবি শিক্ষিকার বহিষ্কার চাইলেন হেফাজত মহাসচিব সাজিদুর রহমান
    শাহজালালে সোনা চোরাচালানে আটক আরমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড
    বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে ১০ এয়ারবাস, পরিকল্পনা ৩৫ উড়োজাহাজের
    শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে সংক্ষিপ্ত তালিকায় চার
    ভাড়া ও উন্নত সড়ক যোগাযোগে কমছে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী
    মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড স্থগিত, ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত