
মতলব প্রতিনিধি: মতলব দক্ষিণ উপজেলার কাচিয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের সামনে ইভটিজিং কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। ইভটিজিং এ বাধা দেওয়া পক্ষের বিরুদ্ধে বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করছেন অপর একটি পক্ষ।
সরেজমিনে জানা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঐহিত্যবাহী কাঞ্চনমালা দিঘির পাশে গড়ে ওঠা কাচিয়ারা স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রীরা প্রায় ইভটিজিং এর শিকার হন। বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ইভটিজিং করার জন্য কতিপয় কলেজ ছাত্রদের সহযোগিতা রয়েছে বলে জানা যায়। এমন পরিস্থিতিতে ইভটিজিং বন্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পাশে বসবাসকারী সরকার বাড়ির লোকজন ইভটিজারদের প্রতিরোধ করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ নভেম্বর বেলা ১১টায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে কয়েকজন কলেজ ছাত্রকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সরকার বাড়ির আলী আরশ্বাদের ছেলে সালাউদ্দিন তাদের চলে যেতে বলেন। ওই সময় দাসেরবন্দ গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের কলেজ পড়ুয়া ছেলে ইমন ও তার বন্ধুরা সালাউদ্দিনের সাথে তর্কে জড়ান। তখন সালাউদ্দিন তাকে (ইমন) একটি থাপ্পর দিয়ে চলে যেতে বললে তারা সেই স্থান ত্যাগ করে। কিন্তু পরবর্তীতে ইমন তার গ্রামের (দাসেরবন্দ) কবির হোসেনের ছেলে রাসেল, কুদ্দুছের ছেলে হাসানসহ বহিরাগত লোকদের জড় করে কাচিয়ারা সরকার বাড়িতে হামলা করতে যায়। ওই সময় সালাউদ্দিনের বড় ভাই কামাল হোসেন তাদের বাধা দিলে ইমনের নেতৃত্বে উশৃঙ্গল ছেলেরা তার মাথায় আঘাত করে। কামালের চিৎকারে সরকার বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে উশৃঙ্খল ছেলেদের ধাওয়া দেয়।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কাচিয়ারা গ্রামের লোকজন যখন ইমনের নেতৃত্বে থাকা দাসেরবন্দ গ্রামের ছেলেদের ধাওয়া করলে উভয় পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়। আর এই সংঘর্ষ হয় দাসেরবন্দ গ্রামের ঢাকার ব্যবসায়ী আঃ কুদুচ্ছের বাড়ির সামনের রাস্তায়। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণায় থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মোল্লা কাকতালীয়ভাবে ওই স্থানে উপস্থিত হওয়াতে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন বলে জানা যায়। তবে সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
এদিকে সংঘর্ষের বিষয়টিকে ইভটিজিং এবং বসতঘরে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ করা হচ্ছে কাচিয়ারা গ্রামের সরকার বাড়ির সালাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। সংঘর্ষের ঘটনায় বিদ্যালয়ের নবন শ্রেণির এক ছাত্রীর মা দাসেবন্দ গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী রাশেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কাচিয়ারা গ্রামের সালাউদ্দিন ও তার ভাই হালিম, দুলাল মিয়ার ছেলে তরিকুলসহ বেশ কয়েকজন ইভটিজিং করতো। ঘটনার দিন তার মেয়ে স্কুল থেকে বাড়ি আসার পথে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। তাদের ধাওয়া থেকে বাঁচতে তিনি ও তার মেয়ে আঃ কুদ্দুসের বাড়িতে আশ্রয় নিলে সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে ১০/১২ জন তাদের মারধর করে এবং বসতঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে। এই বিষয়ে তিনি মতলব দক্ষিণ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
সংঘর্ষের বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন, আমার বড় ভাই কামালের মাথা ফাটিয়ে এবং বাড়ির ছেলে তরিকুলের হাত ভেঙ্গেছে ইমন ও তার সাথে থাকা ছেলেরা। আমাদের ফাঁসাতে ওই মহিলাকে দিয়ে মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে। আমার বড় ভাইয়ের অবস্থা গুরুত্বর। এ ঘটনায় আমরাও মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। মূলত হামলায় জড়িত ইমন ও তার সাথে থাকা ছেলেদের রক্ষা করতেই বসতঘরে হামলা ও লুটপাটের নাটক সাজাচ্ছে তারা।
