
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকতে সিনেটের ৩৫টি আসনের দখল নিয়ে তুমুল লড়াই শুরু হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান এবং বিরোধী ডেমোক্র্যাট উভয় দলই পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে। বর্তমানে ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে ৫৩টি আসন এবং ডেমোক্র্যাট ও তাদের মিত্রদের হাতে আছে ৪৭টি। ডেমোক্র্যাটদের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নিজ আসনগুলো রক্ষার পাশাপাশি নতুন করে অন্তত চারটি আসনে জয়লাভ করা জরুরি। এবারের নির্বাচনে ৩৩টি নিয়মিত আসনের বাইরে ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে আরও দুটি বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে প্রথা অনুযায়ী নিউইয়র্কে কোনো ফেডারেল সিনেট নির্বাচন রাখা হয়নি। ভোটারদের মনস্তত্ত্বে এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত বিভিন্ন নীতি, অভিবাসন সমস্যা এবং স্থানীয় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল মূলত জর্জিয়া, মেইন, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, আলাস্কা, আইওয়া, টেক্সাস, কানসাস ও নিউ হ্যাম্পশায়ার— এই ১০টি রাজ্যের লড়াইয়ের ওপর নির্ভর করছে। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ এবং রিপাবলিকান মাইক কলিন্সের লড়াইয়ে অক্টোবরের জরিপে অসফ কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। তবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার কারণে রিপাবলিকানরা রাজ্যটিতে প্রচার জোরদার করেছেন। মেইনে দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন; ১৩-১৪ অক্টোবরের ইনসাইডারঅ্যাডভান্টেজ জরিপ অনুযায়ী জ্যাকসন ৪৯ ও কলিন্স ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ (৪৬ শতাংশ) এবং মাইক রজার্সের (৪৪ শতাংশ) ব্যবধান বেশ কম। তবে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজ্যটিতে ট্রাম্প জয়ী হওয়ায় রিপাবলিকানরা প্রচার জোরদার করছেন। ১৪–১৫ অক্টোবরের জরিপে পেলটোলা ৪৮ এবং সুলিভান ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।
নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার (৫০ শতাংশ) ও রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলির (৪৩ শতাংশ) সাম্প্রতিক জরিপ ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন ও বর্তমান সিনেটর রিপাবলিকান জন হাস্টেডের লড়াইয়ে ব্রাউন ৪৮ ও হাস্টেড ৪২ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে থাকলেও তাদের নির্বাচনী ব্যয় নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। টেক্সাসে কেন প্যাক্সটন ও জেমস ট্যালারিকোর মধ্যকার লড়াইয়ে জরিপের ফলাফল অসামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে একবার ট্যালারিকো চার শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আবার অন্যবার প্যাক্সটন এক পয়েন্টে এগিয়ে থাকছেন। আলাস্কায় মেরি পেলটোলা ৪৮ শতাংশ ও ড্যান সুলিভান ৪৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি অবস্থানে রয়েছেন। কানসাসে রিপাবলিকান রজার মার্শাল (৪৮ শতাংশ) ও ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টনের (৪৭ শতাংশ) ব্যবধানও খুবই সামান্য। নিউ হ্যাম্পশায়ারে ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাস রিপাবলিকান জন সুনুনুর চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন।
১৬ অক্টোবর প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি সিনেট নির্বাচনের মধ্যে ১২টিতে সরাসরি প্রচার তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। তবে রিপাবলিকান ঘরানার বিভিন্ন বাইরের সংগঠনের বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যয়ও বেশ বিপুল। জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব সব রাজ্যে সমভাবে কাজ না করলেও অর্থনীতি, জ্বালানির দাম, স্বাস্থ্যসেবা এবং ইরান যুদ্ধের মতো ইস্যুগুলো ভোটের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ৩ নভেম্বর ভোটারদের রায়ের ওপরই নির্ভর করবে।
