
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয় দেশই এখন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মুখোমুখি। ইসরাইলে সংসদ নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় ধরনের কোনো সামরিক পদক্ষেপে না যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরই ইরানে তীব্র ও সংক্ষিপ্ত সামরিক অভিযানের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে দুই মিত্র দেশ। সম্প্রতি উভয় দেশের সামরিক বাহিনী এই অভিযানের অংশ হিসেবে মহড়া জোরদার করেছে, যার মধ্যে ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে আক্রমণের কৌশলও রয়েছে। চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই হামলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
প্রস্তাবিত এই হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার, জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বড় ধরনের এই আঘাত ইরানের অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলবে এবং আট মাসের সংঘাতের পর দেশটিকে কূটনৈতিক আপসের টেবিলে আসতে বাধ্য করবে। তবে এই অভিযান শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না বা ট্রাম্প হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় আছে। চলতি বছরেই বেশ কয়েকটি অভিযানের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার পরও ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করেছেন। আগামী নভেম্বরের শুরু নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি রণতরী, হাজার হাজার মেরিন সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে মার্কিন শক্তির পূর্ণ সমাবেশ ঘটবে।
এদিকে তেহরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নতুন কোনো হামলা হলে তারা কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ বা জ্বালানি অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি স্পষ্ট করেছেন, ওয়াশিংটন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করবে—এমন ধারণা অবাস্তব। তাদের মতে, এবারের প্রতিরোধ হবে কৌশলগত ও ভিন্নধর্মী। ইরান ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল টার্গেট করার পরিকল্পনাও রাখছে। তেহরানের বিশ্লেষকদের সতর্কতা, মাটির গভীরে থাকা পিকঅ্যাক্স পাহাড়ের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানা হলে ইরান পাল্টা হিসেবে সৌদি আরবের বড় তেল শোধনাগারে হামলা চালাতে পারে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে মার্কিন জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
২৭শে অক্টোবরের ইসরাইলি নির্বাচন এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পুরো পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে জটিল করে তুলেছে। নির্বাচনকালীন অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি এড়াতে আপাতত বড় কোনো পদক্ষেপে ট্রাম্প অনাগ্রহী বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবুও হোয়াইট হাউস পুনরায় নিশ্চিত করেছে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের সামরিক ও কৌশলগত বিকল্পই এখনো তাদের টেবিলে খোলা রয়েছে।
