
গত বুধবার ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় এক বিমানবন্দর কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সুলতান বিন আলি আল মাসতুর আল কাহতানি নামের ওই কর্মী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে প্রাণ হারান। হামলার পর বিমানবন্দরের ১৯ ও ২০ নম্বর গেটের কাছে একটি যাত্রীবাহী বিমানের পাশে আগুন ছড়িয়ে পড়লে তিনি দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ২১ অক্টোবর দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছে আগুন ধরে যায়। এ সময় নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মীদের ভূমিকা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সুলতানের মৃত্যু তারই একটি উদাহরণ।
সুলতান এবং তার সহকর্মীরা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড রোধে হাতে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে কাজ শুরু করেন। আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধির আগেই যাত্রীদের নিরাপদ রাখাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। অগ্নিনির্বাপণ কাজ শেষে অফিসে ফেরার পর সুলতান তীব্র বুকে ব্যথা ও ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সুলতানের বাবা জানিয়েছেন, সংকটের মুহূর্তে সুলতান নিজের জীবনের চেয়ে যাত্রীদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তার এই অসামান্য সাহসিকতার বিষয়টি এখন সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা কীভাবে জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করেন, এটি তারই একটি মর্মান্তিক উদাহরণ। সুলতানের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। বিপদের মুহূর্তে দ্রুত সাড়া দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর চালানো এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিং ফাহাদ বিমানবন্দরের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌদি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হামলায় সুলতান ছাড়াও আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আটজন আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ একজন সৌদি নাগরিকের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও ঘটনার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি বা বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে আর কোনো তথ্য দেয়নি।
