শিরোনাম
সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে বিএনপি অনীহা দেখাচ্ছে, অভিযোগ এনসিপি নেতার এলপিজির বাড়তি দাম: আবারও দাম বাড়ানোর আবেদন ব্যবসায়ীদের বহরে নতুন এ৩২১এলআর উড়োজাহাজ যুক্ত করছে কাতার এয়ারওয়েজ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করলেন বারাক ওবামা পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার অভিযোগ রংপুরে অটোরিকশা চুরির চেষ্টায় গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু বাঁশখালীর জলকদরের তীরে কাশফুলের সমারোহে দর্শনার্থীদের ভিড় মহাবিপন্ন চালমুগরা গাছ: দ্রুত বিলুপ্তির পথে মূল্যবান ভেষজ দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে কর্মীর প্রাণহানি আজ ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন
  • প্রচ্ছদ
  • অর্থনীতি
  • এলপিজির বাড়তি দাম: আবারও দাম বাড়ানোর আবেদন ব্যবসায়ীদের
  • এলপিজির বাড়তি দাম: আবারও দাম বাড়ানোর আবেদন ব্যবসায়ীদের

    রান্নার জ্বালানি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট এবং উচ্চমূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। বাজারে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও, খুচরা পর্যায়ে তা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম ২৫২ টাকা বাড়ানোর পরও বাড়তি এই দরে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। কোথাও কোথাও সিলিন্ডার সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে গ্যাস। এর মধ্যেই আরেক দফা দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর চেয়ে ঢাকায় দাম বেশি। তিনটি এলপিজি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, রান্নার পাশাপাশি শিল্প ও পরিবহন খাতে চাহিদা বাড়ছে। এতে ১২ কেজি করে ৮৩ লাখ সিলিন্ডার পায় গ্রাহক।

    কারওয়ান বাজারের চা বিক্রেতা মো. শাহেদ জানান, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম রাখা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সুরমা বেগম জানিয়েছেন, গত শুক্রবার তিনি ২ হাজার ৩০০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনেছেন। ভোলার পরিস্থিতিও একই, সেখানেও ২ হাজার ১০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে। সংকট কাটাতে এবং সরবরাহ ঠিক রাখতে এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন লোয়াব কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এর সভাপতি আমিরুল হক। যদিও তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলায় একই দিনে তাঁর এক স্বজন এলপিজি কিনেছেন ২ হাজার ১০০ টাকায়। গ্রাহকের কাছে একটি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে চারটি সিলিন্ডার লাগে। অথচ আরও অন্তত ৬০ লাখ সিলিন্ডার সক্রিয় থাকলে মাসে গ্রাহকের কাছে ১৫ লাখ সিলিন্ডারের সরবরাহ বাড়ত।

    দেশের বাজারে এলপিজি আমদানির সক্ষমতা ২৩টি কোম্পানির থাকলেও, বর্তমানে মাত্র কয়েকটিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে আমদানি কার্যক্রম।

    এলপিজি আমদানিকারক ও পরিবেশক পর্যায়ে মজুত থাকার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম দাবি করেছেন, মাত্র এক মাসেই কোম্পানিগুলো ৬০০ কোটি টাকার বেশি বাড়তি হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এর মধ্যে অন্যান্য খরচও বাড়ানোর দাবি তুলেছেন পরিবেশক ও আমদানিকারকেরা।

    এদিকে, এলপিজি বাজারে চলমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রায় আড়াই কোটি সিলিন্ডার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকাকে দায়ী করছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সেলিম খান। তিনি জানান, প্রায় ১০ থেকে ১২টি কোম্পানি এলপিজি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে, যার ফলে পরিবেশকরা দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী সব কোম্পানিরই সব ধরনের সিলিন্ডার ফেরত নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা করছে না। কেউ কেউ অন্যদের থেকে কিনে বাজারে কিছুটা সরবরাহ করছে, আর কারও সরবরাহ নামমাত্র। এর ফলে অনেক পরিবেশক এলপিজি পাচ্ছে না, অন্য পরিবেশকদের থেকে কিছু কিছু করে নিচ্ছে।

    বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, যারা আমদানি করতে পারছে না, তাদের ঋণপত্র সহজ করতে জ্বালানি বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় গণশুনানিতে সিলিন্ডারের দাম, কমিশন বৃদ্ধি এবং আমদানির বর্তমান পরিস্থিতির ওপর বিস্তারিত আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২৯ অক্টোবর এ প্রস্তাবের ওপর শুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কিন্তু দেশে দাম সমন্বয় করা হয় ৪ অক্টোবর। তাঁদের এসব দাবি আমলে নিয়ে ২৯ অক্টোবর গণশুনানি ডেকেছে বিইআরসি। তাই আপাতত দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। শতভাগ টাকা জমা না দিলে কোনো ব্যাংক ঋণপত্র দিচ্ছে না। ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় লেনদেনেও জটিলতায় আছে তারা।

    ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতি সিলিন্ডারে আরও ৮০ টাকা কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি এবং ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে আগের নির্ধারিত দামে ব্যবসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। অন্যদিকে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও জাহাজভাড়া বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।

    আগস্ট মাসে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। ফ্রেশ এলপি গ্যাসের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজার মতে, আগামী মাসে বাজারে সরবরাহ সংকট কেটে যাবে। তবে আমদানিকারকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এলপিজির বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। এলপিজি খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ সৌদিতে ছড়িয়ে পড়ার পর গত মাসে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যায়। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয় মজুত করা। রান্নার গ্যাসে মাসে এখন সরবরাহ করা হচ্ছে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি।

    পরিসংখ্যান বলছে, দেশের এলপিজি বাজারের ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। মোট ৫ কোটি ৩০ লাখ সিলিন্ডারের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কোম্পানির প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ সিলিন্ডার সক্রিয় রয়েছে। অর্থাৎ, মোট সক্ষমতার প্রায় ৪২ শতাংশ সিলিন্ডার নিয়মিত ব্যবহারের বাইরে। মজুত সক্ষমতা ১ লাখ ৮০ হাজার টন হলেও আমদানির অভাবে বড় একটি অংশ অব্যবহৃত থাকছে। সংকট এড়াতে অনেক গ্রাহক এখন বিদ্যুৎ-চালিত চুলার মতো বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন। যার জন্য দরকার ৩ কোটি ৩২ লাখ সিলিন্ডার, যা এখন নিয়মিত পাওয়া যায় না। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানির সক্ষমতা ৯৫ হাজার টন। অর্থাৎ বাকিরা আমদানি না করায় ৪৭ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার হচ্ছে না।

    আরও পড়ুন

    স্পেনের টেক্সটাইল মেলায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের ১৮ প্রতিষ্ঠান
    রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে
    তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল
    অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বহুপাক্ষিক সংস্থার ইতিবাচক সাড়ায় আশাবাদী অর্থমন্ত্রী
    তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু
    মালয়েশিয়ায় আকিজ বশির গ্রুপের ইভলভ বিয়ন্ড বিজনেস কনফারেন্স
    বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নে চায়না এক্সিম ব্যাংককে আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর
    ন্যাশনাল ব্যাংকের মহাখালী শাখায় টাকা তোলার সুযোগ