
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কর্মীরা বেশ কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন। মূলত ব্যাংকিং-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছেন আদালতের বেশ কয়েকজন কর্মী। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও আদালতের মূল কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজাত শামিম খান। তিনি জানান, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সব ধরনের তদন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আদালত বদ্ধপরিকর।
চলতি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়মিত সমালোচনার অংশ হিসেবে এই আদালতকে তিনি ‘দুষ্ট আদালত’ আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হুমকি বন্ধ না হলে তারা আইসিসির সমাপ্তি টানবেন। বর্তমানে নতুন প্রধান প্রসিকিউটর নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত নাজাত শামিম খান যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নীতিগতভাবে নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপ করা হলেও তা কর্মীদের ব্যক্তিগত আর্থিক সেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা থাকলেও গত ৯ অক্টোবর ঘোষণার পরপরই সমস্যাগুলো দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ফিজির নাগরিক নাজাত শামিম খান জানান, নিষেধাজ্ঞার পরিধি নিয়ে অস্পষ্টতার কারণে ব্যাংকগুলো অহেতুক সতর্কতা অবলম্বন করছে। প্রতিকূলতা সামলাতে আদালত ইতিমধ্যে মাইক্রোসফটের পরিবর্তে ইউরোপীয় সফটওয়্যার ব্যবহারে স্থানান্তরিত হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য ব্যাংকিং সেবার জন্য বিকল্প সেবাদাতাদের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে কাজে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। আদালতের নির্দেশে প্রসিকিউটরের দাখিল করা আরও কয়েকটি আবেদন গোপন রাখা হয়েছে। যদিও নিষেধাজ্ঞাগুলো পুরোপুরি কার্যকর হলে তার পূর্ণাঙ্গ প্রভাব কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন, তবুও আইসিসির উৎপাদনশীলতা কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
