
মতলব প্রতিনিধি: ১৭ অক্টোবর ২০২২, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইভিএম পদ্বতিতে একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে জেলা পরিষদ নির্বাচনের। এতে চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলা (৪নং ওয়ার্ড) থেকে কে হতে যাচ্ছেন সাধারণ সদস্য? এমন প্রশ্ন ভোটার ও সাধারণ জনগণের মাঝে। এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট কেনা-বেচায় অর্থ বানিজ্য চলছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তর সমালোচনা এবং বিরুপ মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদ নির্বাচনে সর্বশেষ ওয়ার্ড বিভাজনের হিসাব অনুসারে জেলার প্রতিটি উপজেলাকে একটি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়েছে। সেই অনুসারে মতলব দক্ষিণ উপজেলার একটি পৌরসভা, ছয়টি ইউনিয়ন এবং উপজেলা পরিষদ মিলিয়ে মোট ভোটারের সংখ্যা ৯৪ থাকার কথা থাকলেও তিনজন ইউপি সদস্যের মৃত্যুবরণ এবং একজন প্রবাসে থাকার কারণে ভোটের হিসাবটা এখন ৯০ জনের মধ্যে রয়েছে। আর এই ভোটারগণ তাঁদের ভোট প্রদান করবেন সাধারণ সদস্য হিসেবে প্রার্থী হওয়া পাঁচজনকে।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক আল আমিন ফরাজী (প্রতীক হাতি), ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মোঃ জসিম উদ্দিন মিঠু (প্রতীক টিউবওয়েল), জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি রিয়াদুল আলম রিয়াদ (প্রতীক তালা), ছাত্রলীগ নেতা বাদল ফরাজী (প্রতীক উটপাখি) এবং ফরহাদ হোসেন (প্রতীক সিএনজি)।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে কে হতে যাচ্ছেন জেলা পরিষদের সাধারণ সদস্য? এমন প্রশ্নের উত্তরে মিলে অনেক চমক প্রদক তথ্য! নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার ও সাধারণ জনগণ মনে করছেন, এবার লড়াই হবে ত্রিমুখি। আল আমিন ফরাজী, মোঃ জসিম উদ্দিন মিঠু এবং রিয়াদুল আলম রিয়াদের মধ্যে। আবার কেউ বলছে দ্বি-মুখি, আল আমিন ফরাজী এবং মোঃ জসিম উদ্দিন মিঠুর মধ্যে। নির্বাচনে অপর দুই প্রার্থী বাদল ফরাজী এবং ফরহাদ হোসেন আলোচনায় নেই কেন? এমন প্রশ্নে তারা বলেন, এই দুইজন প্রার্থী হলেও আলোচনায় নেই। এছাড়া প্রচার প্রচারনায় এঁরা অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
নির্বাচনের লড়াই দ্বিমুখি বা ত্রিমুখী হোউক না কেন কিসের ভিত্তিতে ভোটার ও সাধারণ জনগণ এমন মন্তব্য করছে তার উত্তর খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায়, যেহেতু এই নির্বাচনে ভোটাদের সংখ্যা কম এবং নির্দিষ্ট তাই সকল প্রার্থীই চাইছেন তাদের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য। ভোটারদের আকৃষ্ট করার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বিভিন্ন রকমের চর্চা! এতে যে বিষয়টি সবচেয়ে আলোচিত তা হলো সর্বোচ্চ দর! মানে যে প্রার্থী যত বেশি টাকা দিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে পারবে তিনিই জয়ী হবেন। তবে কেউ কেউ এই তত্ত্ব মানতে নারাজ। তারা বলেন, এখানে দলীয় কোনো মনোনয়ন নেই, তাই প্রার্থীগণ ভোটারদের মন জয় করার জন্য রাজনৈতিক লবিং, স্বজনদের মাধ্যমে অনুরোধ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রভাব বিস্তারের কথা উল্লেখ্য করেন। তবে এসব কিছু ছাড়িয়ে বার বার অর্থ বানিজ্য চলার কথাটি ‘টপ অব দ্যা উপজেলা’ এ পরিণত হয়েছে মনে করেন অধিকাংশ জনগণ।
