
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী শাহাদাত হোসেন প্রধান সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে নাঙ্গলকোটের উদ্দেশে যাওয়ার পথে ঢাকা-মতলব সড়কের মাদলা গ্রামের কাছে তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অটোরিকশাকে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রাইভেট কারের চালক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। বিলাপ করতে করতে আজ শুক্রবার দুপুরের কথাগুলো বলছিলেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত শাহাদাত হোসেন প্রধানের (২৩) মা শাহানা বেগম। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে শাহাদাত ছিলেন দ্বিতীয়। দুর্ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাদাতকে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর কাকরাইলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। সবার ছোট বোন ইভা আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে।
নিহতের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকা। ‘হাসিমুখে ছেলেটা বের হলো, ফিরল লাশ হয়ে।
শাহাদাতের বাবা ইব্রাহিম খলিল লিবিয়াপ্রবাসী এবং বড় ভাই আহাদ হোসেন সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী। বড় ভাই আহাদ হোসেন জানান, ২০১৯ সালে পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর শাহাদাতের একমাত্র নেশা ছিল মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করা। তার শখ পূরণ করতে আহাদ হোসেন প্রায় ২৭ দিন আগে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় এই মোটরসাইকেলটি কিনে দিয়েছিলেন। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে দুবাই থেকে বাড়ি ফিরেছেন আহাদ। এদিকে বৈধ কাগজপত্রের অভাবে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরতে না পারায় শাহাদাতের বাবা শেষবার ছেলের মুখটিও দেখতে পারেননি। বিদেশে থাকায় ছেলের মুখটাও দেখতে পারল না বাপে।
শাহাদাতের মা শাহানা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে হাসিমুখেই ছেলেকে নাঙ্গলকোটের ছোট খালার বাড়ির উদ্দেশে বিদায় দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পর ঘটে অকাল মৃত্যুর ঘটনা। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনা এবং নিহতের বিষয়টি তারা অবগত আছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
